দিনের শুরুটা অনেকেরই হয় এক কাপ গরম চায়ের সাথে। আবার কেউ কেউ তাড়াহুড়োতে বা অভ্যাসের বশে সকালের খাবার বাদ দিয়ে শুধু চা পান করেন। তবে এই দৈনন্দিন অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?
চা নিঃসন্দেহে একটি জনপ্রিয় পানীয় এবং এর কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। কিন্তু খালি পেটে চা বা কফি পান করা একেবারেই উচিত নয়। এর বেশ কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে শরীরের উপর।
খালি পেটে চা পানের কুফল:
অ্যাসিডিটি ও বদহজম: খালি পেটে চা পান করলে অ্যাসিডিটি বা বদহজমের সমস্যা হতে পারে। চায়ে থিওফাইলাইন নামক একটি যৌগ থাকে, যা শরীরের জলীয় অংশ শোষণ করে নেয়। এই ডিহাইড্রেটিং প্রভাবের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
দাঁতের এনামেলের ক্ষয়: সকালে ঘুম থেকে উঠে চা পান করার পর মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনিকে ভেঙে ফেলে, যা মুখের অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে দাঁতের সুরক্ষাকারী স্তর এনামেলের ক্ষয় হতে শুরু করে।
পেট ফাঁপা ও আলসারের ঝুঁকি: যারা সকালে দুধ চা পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে পেট আরও বেশি ফাঁপে এবং দিনভর অ্যাসিডিটিতে ভুগতে হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে আলসারের মতো গুরুতর রোগও হতে পারে।
চা পানের সঠিক সময়:
চা পান করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো খাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর। সকালে চা পান করতে চাইলে অবশ্যই খালি পেটে নয়। দুধ চা এড়িয়ে যাওয়া উচিত, কারণ এতে তেমন কোনো পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না। এর পরিবর্তে গ্রিন টি, তুলসি টি বা লেমনগ্রাস টির মতো ভেষজ চা পান করা শরীরের জন্য বেশি উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা ওয়ার্কআউটের আগে কফি পান করার পরামর্শ দেন, কারণ এটি শরীরে বাড়তি শক্তি যোগায়। এছাড়াও, ব্ল্যাক কফি অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরাতে সাহায্য করে।
ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা বা কফি পান না করে এক কাপ গরম জলে সামান্য লেবুর রস, এক চিমটি লবণ ও কালো মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়। এই পানীয় ওজন কমাতেও সহায়ক।
সুতরাং, দিনের শুরুতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। খালি পেটে চা পানের অভ্যাস ত্যাগ করে সঠিক সময়ে এবং সঠিক ধরনের চা পান করার মাধ্যমেই আপনি আপনার স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।