দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। প্রবল জল্পনা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়লাভ করল অভিনেতা তথা থালাপ্যথি বিজয়-নেতৃত্বাধীন ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) সরকার। বুধবার বিধানসভায় পেশ করা আস্থা প্রস্তাবে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন ১৪৪ জন বিধায়ক। এই জয়ের ফলে সরকার যে আপাতত সুরক্ষিত, তা প্রমাণ করে দিলেন তামিল রাজনীতির নয়া ‘পাওয়ার হাউস’ বিজয়।
এদিনের আস্থা ভোটকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অন্দরে ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে ভোটাভুটি শুরুর আগেই নাটুকে মোড় নেয় পরিস্থিতি। বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের নেতৃত্বে ডিএমকে (DMK)-র সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে একযোগে বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াক-আউট করেন। ডিএমকে-র কোনো সদস্যই শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের জয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত বুঝেই কৌশলগতভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ডিএমকে শিবির।
২৩৩ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি ভোট। আস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে মোট ১৪৪টি, আর বিপক্ষে ভোট দেন মাত্র ২২ জন সদস্য। সবচেয়ে বড় চমক ছিল এআইএডিএমকে (AIADMK)-র ভূমিকা। বিজয়ের সরকার রক্ষায় এগিয়ে আসেন ইডাপ্পাডি পালানিস্বামীর দলের ২৫ জন বিধায়ক। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ছিল না বিজয়ের হাতে। কিন্তু আস্থা ভোটে এআইএডিএমকে-র এই অভাবনীয় সমর্থন বিজয়ের গদি নিশ্চিত করল।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সরকার গড়তে হলে আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ নিশ্চিত করতে হবে। এরপরই কংগ্রেস, বাম দলসমূহ, ভিসিকে (VCK) এবং আইইউএমএল (IUML)-এর সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর তাঁদের সমর্থন লাভে সফল হন বিজয়। সেই সমর্থনের ভিত্তিতেই গত ১০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। আজকের আস্থা ভোটে জয়ের পর বিজয়ের সামনে এখন রাজ্য শাসনের নতুন চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে-র ওয়াক-আউট এবং এআইএডিএমকে-র পরোক্ষ সমর্থন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কোনো নতুন জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।





