পরিচালক আদিত্য ধরের হাই-ভোল্টেজ ছবি ‘ধুরন্ধর ২’ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই উত্তেজনা বদলে গেল তিক্ততায়। ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় নয়ডার এক নামী মাল্টিপ্লেক্সে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী চলাকালীন চরম অব্যবস্থাপনা এবং যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল প্রেক্ষাগৃহ। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ পুলিশ ডাকতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিকেল ৫:৪৫-এর শো চলাকালীন গন্ডগোলের সূত্রপাত। ইন্টারভ্যালের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও আর স্ক্রিনিং শুরু হয়নি। যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে দর্শকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। কিন্তু কোনো সদুত্তর না মেলায় ধৈর্য হারান কয়েকশো দর্শক।
দর্শকদের গুরুতর অভিযোগ: ‘ব্যবসা চলল, সিনেমা নয়’
ক্ষুব্ধ দর্শকদের দাবি, অডিটোরিয়াম-১-এ কারিগরি সমস্যার দোহাই দিয়ে শো বন্ধ রাখা হলেও, কর্তৃপক্ষ কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল।
প্রতারণার অভিযোগ: দর্শকদের বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছিল যে “৫ মিনিটের মধ্যে ছবি শুরু হবে”। এই ফাঁকে কয়েক হাজার টাকার পপকর্ন ও কোল্ড ড্রিঙ্কস বিক্রি করা হয়।
বৈষম্য: সেক্টর ৭৮-এর ব্যবসায়ী শশাঙ্ক সিং জানান, তাঁদের শো বন্ধ থাকলেও অন্য স্ক্রিনে রাত ১০টার শো চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদ করলে দর্শকদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে প্রেক্ষাগৃহের ভেতরেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন দর্শকরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই দিনের সমস্ত শো বাতিল ঘোষণা করা হয়। নিজের পাওনা টাকা এবং সময়ের অপচয় নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সাক্ষী শ্রীবাস্তবের মতো অনেক দর্শকই।
রণবীর সিং অভিনীত এই বিগ বাজেট ছবির মুক্তির শুরুতেই এমন বিশৃঙ্খলা ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। মুক্তির পর সাধারণ প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সুষ্ঠুভাবে প্রদর্শনী চালানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ নির্মাতা ও ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছে।