ভারতীয় টেলিভিশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় শো ‘বিগ বস’-এর ১৯তম সিজন চলছে। এই শোয়ের প্রযোজক সংস্থার সিইও ঋষি নেগি সম্প্রতি শোয়ের নেপথ্যের কিছু অজানা তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে প্রায় দু’দশক ধরে এই শো সফলভাবে চলছে এবং কেন সলমন খানের নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঋষি নেগি বলেন, গত কয়েক বছরে সলমন খানের উপর হুমকির কারণে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক কঠোর করা হয়েছে। যখন সলমন খান সেটে থাকেন, তখন কোনো লাইভ অডিয়েন্স রাখা হয় না। এছাড়াও, যারা শো-তে আসেন, তাদের জন্যও কড়া নিয়ম মানা হয়। তিনি জানান, “আমরা যাঁদেরই নিয়োগ করি— স্থায়ী, অস্থায়ী বা ভেন্ডর— তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাকগ্রাউন্ড কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।”
প্রযোজক সংস্থার সিইও জানান, ‘বিগ বস’-এর মতো একটি বড় শো পরিচালনা করার জন্য প্রায় ৬০০ জন কর্মী তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা কাজ করেন। তিনি বলেন, “কনটেন্টের নিরাপত্তা এবং লজিস্টিকসের ক্ষেত্রে আমরা কোনো আপস করি না, কারণ এটি আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও জানান, বিগ বস মূলত একটি ‘সামাজিক পরীক্ষা’, যেখানে মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। ঘরের ভিতরে ২০০টিরও বেশি ক্যামেরা প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড করে। সেই ফুটেজ থেকে গল্প তৈরি করার জন্য এডিটর এবং প্রযোজক দল রিয়েল-টাইমে কাজ করে। ঋষি বলেন, “এই শো কখনো স্ক্রিপ্ট মেনে চলে না, কারণ প্রতিযোগীদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী গল্প এগোয়। কখনো আমরা কিছু পরিকল্পনা করি, কিন্তু ঘরের ভিতরে বড় কিছু ঘটলে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে নতুন করে সাজাতে হয়।”
শোটির প্রথম সিজনে আরশাদ ওয়ারসি সঞ্চালনা করলেও পরে শিল্পা শেট্টি এবং অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকারা এই দায়িত্ব সামলেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সলমন খানই ‘বিগ বস’-এর মুখ হয়ে উঠেছেন। ঋষি নেগি জানান, সলমন শুধু সঞ্চালনাই করেন না, বরং শো পরিচালনার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি নিয়মিত মিটিংয়ে বসেন এবং কাস্টিং নিয়েও পরামর্শ দেন।