বলিউড এমন এক জগৎ যেখানে সাফল্য এবং বিতর্ক হাতে হাত ধরে চলে। বহু প্রতিভাবান অভিনেতা রাতারাতি খ্যাতির শিখরে উঠেছেন, আবার এক মুহূর্তের বিতর্কে তাদের জীবন এবং ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। এই তালিকায় এমন একজন উজ্জ্বল অভিনেতা হলেন শাইনি আহুজা, যিনি একসময় বিদ্যা বালান এবং কঙ্গনা রানাউতের মতো শীর্ষ অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
২০০৫ সালে ‘হাজারো খোয়াইশে আই’ ছবি দিয়ে বলিউডে পা রাখেন শাইনি। এরপর ‘গ্যাংস্টার’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’র মতো একের পর এক সফল ছবিতে তার অভিনয় নজর কাড়ে। অনেকেই তাকে বলিউডের দীর্ঘ দৌড়ের ঘোড়া বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু ২০০৯ সালে একটি ঘটনা তার সবকিছু কেড়ে নেয়।
২০০৯ সালে শাইনি আহুজার বিরুদ্ধে তার ১৯ বছর বয়সী পরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ) এবং ৫০৬ (মৃত্যুর হুমকি) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই অভিযোগের পর তার ৩৫ বছরের খ্যাতি এবং জনপ্রিয়তা মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
২০১১ সালে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এই রায় তার অভিনয় জীবনের উপর পূর্ণচ্ছেদ টেনে দেয়। যদিও পরে সেই পরিচারিকা আদালতে তার বক্তব্য পরিবর্তন করে এবং ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে, কিন্তু আদালত তা গ্রহণ করেনি। আদালত মনে করে, ভয় বা চাপের কারণে তিনি হয়তো মিথ্যা কথা বলছেন।
শাইনি আহুজা ১৯৯৭ সালে অনুপমা পান্ডেকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি মেয়েও আছে, যার নাম আরশিয়া। ব্যক্তিগত জীবনেও এই বিতর্কের প্রভাব পড়েছিল। এই ঘটনার পর শাইনিকে আর বড় কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। এক উজ্জ্বল প্রতিভার এমন করুণ পরিণতি বলিউড জগতে একটি দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে থেকে গেল।