আজ তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের ‘ভাইজান’, কিন্তু এক সময় তাঁর পরিচয় ছিল স্রেফ ‘মাস্টার রাজুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোর’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সলমন খানকে নিয়ে এমনই সব চাঞ্চল্যকর ও অজানা স্মৃতির ডালি সাজিয়ে বসলেন এক সময়ের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী রাজু শ্রেষ্ঠ বা ‘মাস্টার রাজু’। সলমন তারকা হওয়ার অনেক আগের সেই দিনগুলির কথা মনে করে রাজু জানান, সলমন আজও সেই আগের মতোই আছেন— হিসেবি নন, বরং হৃদয়ের টানে চলা এক জেদি মানুষ।
রাজুর কথায়, “বান্দ্রার একই এলাকায় আমরা বড় হয়েছি। ‘পত্থর কে ফুল’ ছবির আগে যখন সলমন স্কেটিং শিখতেন, তখন আমি সাইকেল চালাতাম আর ও আমার সাইকেলের ক্যারিয়ার ধরে স্কেটিং প্র্যাকটিস করত। এমনও দিন গিয়েছে যখন রাস্তায় মানুষ আমাকে দেখে বলত— ‘দেখো মাস্টার রাজু দাঁড়িয়ে আছে, আর ওর পাশে একটা ছেলেও আছে’। তখন ওর কোনও পরিচিতিই ছিল না।” পুরনো দিনের বন্ধুত্বের গভীরতা বোঝাতে রাজু আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমরা একসাথে নগ্ন হয়ে স্নান করেছি, সব বিষয়ে আড্ডা দিয়েছি। সলমন বন্ধু করার আগে কোনওদিন লাভ-ক্ষতি ভাবত না।”
তবে কেন বারবার বিতর্কে জড়ান সলমন? রাজু শ্রেষ্ঠর মতে, সলমন মস্তিষ্ক দিয়ে নয়, বরং মন দিয়ে চলেন। রাজু বলেন, “সলমনের নিজের আবেগের ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। কখনও দেখা যেত কারও বাড়ির নিচে গিয়ে চিৎকার করছেন, কখনও প্রাক্তন প্রেমিকার বাড়ির সামনে গিয়ে অশান্তি করছেন। ও খুব ভালো মানুষ, কিন্তু যখন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, তখন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।”
শৈশবের সেই বন্ধুত্বের রেশ ধরেই পরবর্তীতে সলমন রাজুকে ‘বাঘি’ এবং ‘চল মেরে ভাই’-এর মতো ছবিতে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সলমন ব্যস্ত রয়েছেন তাঁর পরবর্তী মেগাবাজেট ছবি ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’-এর শুটিং নিয়ে। রাজুর এই অকপট স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করল যে, পর্দার পেছনের সলমন আসলে এক রক্তমাংসের আবেগপ্রবণ মানুষ।