সিনেমার দুনিয়ায় বড়সড় ছায়া! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসন রুখতে এবার কোন ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অভাবনীয় দাপট ক্রমশ গ্রাস করে চলেছে বিনোদন দুনিয়া তথা বিশ্ব চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে। প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতির ফলে রুপোলি পর্দার ভবিষ্যৎ এবং কলাকুশলীদের কর্মসংস্থান নিয়ে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত সকল স্তরের মানুষের। একটা সময়ের পর কি তবে সম্পূর্ণ সিনেমা জগৎটাই রোবট ও প্রযুক্তির দখলে চলে যাবে? এই আশঙ্কার মেঘ কাটাতে এর আগে কলকাতার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও দেশের তাবড় পরিচালক ও অভিনেতারা মুখ খুলেছিলেন। প্রত্যেকেই একবাক্যে স্বীকার করেছিলেন যে প্রযুক্তির যতই কর্মক্ষমতা থাকুক না কেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই মানুষের মতো অনুভূতিশীল হয়ে স্বাধীনভাবে ভাবতে সক্ষম নয়। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পকে এআই-এর সম্ভাব্য সর্বগ্রাসী প্রভাবমুক্ত রাখতে বিশ্বজুড়ে সমস্ত শিল্পীদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। ঠিক এই পটপরিবর্তনের মাঝেই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গর্বের খবর সামনে এল। আন্তর্জাতিক স্তরে চলচ্চিত্র এবং মানবসভ্যতার ভারসাম্য রক্ষায় এবার বিশ্বখ্যাত ‘গোল্ড মার্কারি মেগাভিশনারি কাউন্সিল’-এ যুক্ত হলেন বাংলা তথা ভারতের অন্যতম প্রথিতযশা পরিচালক গৌতম ঘোষ।

বিশ্বের দরবারে খাঁটি বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক মানের সুউচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া যে ক’জন পরিচালক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, গৌতম ঘোষ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ‘মেগাভিশনারি কাউন্সিল’ নামক এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রধান পরিচলন পর্ষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্যপদ পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ও সম্মানিত বোধ করছেন পরিচালক। বর্তমান সময়ে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন, যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর প্রশংসিত ছবি ‘পরিক্রমা’ প্রদর্শিত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে তিনি উৎসবে একটি বিশেষ ‘মাস্টার ক্লাস’-ও পরিচালনা করছেন। সুদূর মালয়েশিয়া থেকেই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গৌতম ঘোষ সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

পরিচালক জানিয়েছেন, ১৯৬১ সাল থেকে এই বিশ্বমানের সংগঠনটি প্রকৃতি, পরিবেশ এবং মানবসভ্যতার সার্বিক উন্নতির জন্য নিরলসভাবে বিভিন্ন গঠনমূলক কাজ করে চলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছেন। সংগঠনের শীর্ষকর্তারা তাঁকে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চের অংশীদার করে নেওয়ায় তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর যে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে আলোকপাত করে ‘শঙ্খচিল’ ছবির পরিচালক বলেন, “চলচ্চিত্র হলো সর্বদা সমাজের জীবন্ত আয়না। সমাজের ভালোমন্দ, হাসি-কান্না, গভীর মানবিক অনুভূতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চালচিত্র ফুটিয়ে তোলে সেলুলয়েড পর্দা। কিন্তু বর্তমান যুগে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়া, সৃজনশীলতা এবং সংস্কৃতির মূল ভিতকে আমূল বদলে দিচ্ছে, তখন আমাদের প্রধান কাজ হলো এই প্রযুক্তি যাতে মানুষের সহজাত সৃজনশীল ক্ষমতাকে খর্ব করার পরিবর্তে তাকে আরও বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলতে পারে, তা সুনিশ্চিত করা। ‘ভিশনারি গভর্নেন্স’-কে সঠিক দিশায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এক উন্নত ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমি এই সংগঠনের উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। আমার কাজের মাধ্যমে আমি বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্পকে এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে সচেষ্ট থাকব।”

অন্যদিকে, বিশ্বখ্যাত এই আন্তর্জাতিক সংগঠনের সভাপতি নিকোলাস ডি সান্তিস কুয়াদ্রা গৌতম ঘোষকে তাঁদের বোর্ডে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত বলে জানিয়েছেন। সভাপতির মতে, গৌতম ঘোষের মতো একজন দূরদর্শী ও সংবেদনশীল শিল্পীর শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডকে আরও বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। বিশ্বজুড়ে যখন এআই-এর প্রবল দাপটে চলচ্চিত্রকর্মীরা আতঙ্কিত, ঠিক সেই সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একজন ভারতীয় পরিচালকের এমন জোরালো অবস্থান এবং গুরুদায়িত্ব গ্রহণ নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে।