বলিউড হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। ৭৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক ও সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান পহলাজ নিহালনি। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে যকৃত বা লিভার সংক্রান্ত গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মুম্বইয়ের ভিলে পার্লের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে।
পহলাজ নিহালনি ছিলেন বলিউডের এক অনন্য নাম। প্রযোজক হিসেবে তাঁর বর্ণময় কর্মজীবনে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য সুপারহিট চলচ্চিত্র, যা আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান। তাঁর প্রযোজিত ‘আঁখে’, ‘শোলা অউর শবনম’, ‘ইলজাম’, ‘আন্দাজ’, ‘তালাশ’, ‘রঙ্গিলা রাজা’ এবং ‘জুলি ২’-এর মতো ছবিগুলি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল। বলিউডের সুপারস্টার গোবিন্দার ক্যারিয়ার গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গোবিন্দাকে বলিউডের প্রথম সারির নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিতে তিনি ছিলেন গোবিন্দার আসল ‘গডফাদার’।
চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনেও তিনি ছিলেন অবিচল। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (CBFC) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাঁর এই কার্যকাল ছিল বিতর্কের কেন্দ্রে। সেন্সর বোর্ডের চেয়ারপারসন থাকাকালীন ছবি সার্টিফিকেশন এবং একাধিক দৃশ্যে কাটছাঁট নিয়ে তিনি যে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন, তা নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজকদের একাংশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আইনি ও মতাদর্শগত লড়াই চলেছিল। সেন্সরশিপ এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর সেন্সর বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশজুড়ে সে সময় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি। তিনি অবশ্য কোনো সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করে নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ছিলেন কঠোর।
পহলাজ নিহালনির প্রয়াণে বিনোদন দুনিয়ার বহু তারকা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করেছেন। গোবিন্দার উত্থানের নেপথ্যে থাকা এই মানুষটির চলে যাওয়াকে ভারতীয় সিনেমার এক যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন অনেকেই। বিতর্ক আর সাফল্য—এই দুই মেরুর বাসিন্দা হয়েও তিনি তাঁর নিজস্ব ঘরানায় বলিউডকে সমৃদ্ধ করে গিয়েছেন। তাঁর চলে যাওয়া চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আজীবন নিয়ম ও ডিসিপ্লিন মেনে চলা এই প্রযোজকের কাজ ও বিতর্কিত অধ্যায় দুইই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরকাল চর্চিত হবে।





