রহস্যজনক মৃত্যু মধ্যপ্রদেশে! বেগুন ভর্তা-রুটি খেতেই প্রাণ গেল তিন বোনের, ময়নাতদন্তের আগেই দেহ পুঁতে দেওয়ায় দানা বাঁধছে সন্দেহ

মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুর জেলায় এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনায় তিন শিশুকন্যার মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। পরিবারের দাবি, শুক্রবার রাতে বেগুন ভর্তা এবং রুটি খাওয়ার পরেই বমি ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় দুই শিশুর। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
মৃত তিন বোনের নাম পুনম (৭), মনীষা (৩) এবং ৯ মাসের শিশুকন্যা চাহাত। তারা ছত্তরপুরের পিপোরা খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা বালমুকুন্দ কুশওয়াহার সন্তান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত তিনটে নাগাদ আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই তিন শিশু। তাদের শরীরে বমি ও ডায়রিয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। এরপর শনিবার সকাল সাতটা নাগাদ তাদের মধ্যে দুজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মৃত্যুর পর পুলিশকে কোনো রকম খবর না দিয়েই পৈতৃক গ্রাম পানোটায় তড়িঘড়ি তিন শিশুর মৃতদেহ মাটিতে পুঁতে দেন পরিবারের সদস্যরা। কোনো ময়নাতদন্ত না করেই এই দাফন সম্পন্ন করায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। স্থানীয় মাতগুয়া থানার ইনচার্জ অঙ্কুর চৌবে জানান, সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ এই মৃত্যুর খবর পুলিশের কানে আসে। এরপরই তৎপর হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
পুলিশি জেরার মুখে পড়ে পরিবার দাবি করে, রাতের খাবারে বেগুন ভর্তা ও রুটি খাওয়ার পরেই দুই শিশু অসুস্থ হয়ে মারা যায়। তবে ৯ মাসের শিশু চাহাত সেই খাবার খেয়েছিল কি না, নাকি তার মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো, একই খাবার পরিবারের বাকি সদস্যরাও খেয়েছিলেন কি না এবং তাঁরা সুস্থ রইলেন কী করে?
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মৃতদেহগুলি মাটি খুঁড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ—খাবারে বিষক্রিয়া নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক বা শারীরিক কারণ—তা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।