কলঙ্কের চরম সীমা! ৭০ বছরের লম্পট দাদুর লালসার শিকার ১৬ বছরের নাতনি, অন্তঃসত্ত্বা হতেই ফাঁস হাড়হিম করা ঘটনা

উত্তরপ্রদেশের হাথরস জেলা থেকে এক অমানবিক ও লজ্জাজনক ঘটনার খবর সামনে এসেছে, যা সমাজের সমস্ত সীমানা পার করে দিয়েছে। ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ দাদুর বিরুদ্ধে তারই ১৬ বছরের নাবালিকা নাতনিকে দীর্ঘ তিন মাস ধরে লাগাতার ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে এই পৈশাচিক কান্ড ঘটিয়েছে ওই বৃদ্ধ, যার জেরে বর্তমানে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে নির্যাতিতা কিশোরী। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বৃদ্ধের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের হাথরস এলাকায়। বছরকয়েক আগে ওই কিশোরীর মা মারা যাওয়ায় সে বাবা ও দাদুর সঙ্গেই থাকত। কিশোরীর অভিযোগ, তার বাবা যখন প্রতিদিন কাজে বাইরে যেতেন, সেই সুযোগটাই নিত লম্পট দাদু। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গত চার মাস আগে থেকেই অর্থাৎ গত ২০ জুন থেকে সে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি চালাতে শুরু করে। লাগাতার তিন মাস ধরে এই পাশবিক অত্যাচার চলে এবং মুখ বন্ধ রাখার জন্য তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দিত অভিযুক্ত।
ঘটনার আসল সত্যতা প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি। শনিবার হঠাৎ করেই তলপেটে তীব্র যন্ত্রণা ও শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করে ওই কিশোরী। সে তার বাবার কাছে নিজের অসুস্থতার কথা খুলে বলে। এরপর দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানান যে, কিশোরী আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকদের মুখ থেকে এই কথা শোনার পরই হাসপাতাল চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে এবং দাদুর সমস্ত কুকীর্তির কথা বাবাকে জানায়।
হাসপাতাল থেকেই ঘটনার খবর জানানো হয় স্থানীয় থানায়। পুলিশ তৎক্ষণাৎ নড়েচড়ে বসে এবং কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইন সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে। শনিবার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭০ বছরের অভিযুক্ত বৃদ্ধ দাদুকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে নির্যাতিতা কিশোরী হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই নারকীয় ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।