এ বছর মহালয়ার সকালে বাংলা টেলিভিশনের দর্শকরা এক নতুন চমক দেখতে চলেছেন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে এই প্রথমবার মহালয়ার অনুষ্ঠানে দেখা যাবে। ‘মাতৃরূপেণ সংস্থিতা’ নামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন— ভদ্রকালী এবং মহিষাসুরমর্দিনী।
ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কৌশানী বলেন, “আমি বরাবরই এমন একটি চরিত্রের অভিজ্ঞতা পেতে চেয়েছিলাম। দেবীরূপে অভিনয় করা আমার কাছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা, যা সারাজীবন মনে থাকবে। এই অনুষ্ঠানে দুই পর্বে দেবীর হাতে অসুর বধ দেখানো হবে।”
ভদ্রকালী এবং মহিষাসুরমর্দিনী দুটি চরিত্রই তার কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে, ভদ্রকালীর তাণ্ডবের দৃশ্যগুলো করতে গিয়ে তাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। তিনি বলেন, “মহাদেব পায়ের কাছে না এলে যিনি থামেন না, সেই রূপ ফুটিয়ে তোলা সত্যিই কঠিন ছিল। অন্যদিকে, মহিষাসুরমর্দিনী হয়ে অসুর বধ করার সময় আমার গায়ে কাঁটা দিয়েছে। যারা আগে এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তাদের কথা শুনেছি, টিভিতে দেখেছি। এবার নিজে অভিজ্ঞতা অর্জন করে বুঝলাম, এটা সম্পূর্ণ অন্যরকম এক অনুভূতি।”
তারকা হওয়ার পর পুজোর আনন্দ কতটা পাল্টেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে কৌশানী বলেন, “আমার কাছে পুজো আজও আগের মতোই আছে। আমি একজন সাধারণ বাঙালি মেয়ের মতোই পুজো কাটাই।” ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “ছোটবেলায় কার কটা জামা হলো, তা নিয়ে তুতো ভাইবোনদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলত। এখন এত জামা কিনি যে পুজোয় সব পরে শেষ করতে পারি না।”
তার কাছে পুজো মানে প্যান্ডেল হপিং, নতুন জুতো পরে পা কেটে যাওয়া, আর তারপরও ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘোরা। তিনি মজা করে বলেন, “পায়ে ফোসকা না পড়লে মনে হয় না পুজোয় ঠিকমতো ঘুরলাম।”
অভিনেতা বনির সঙ্গে পুজোর প্রসঙ্গ উঠতেই কৌশানী হেসে বলেন, “বনির সঙ্গেই বারবার পুজোর প্রেম। ও আমার সঙ্গে থেকে থেকে ধার্মিক হয়ে গিয়েছে। আমার বাড়িতে বারো মাসে তেরো পার্বণ হয়, আর বনি সব পুজোতে উপোস থাকে। আগের বনি একদমই ঈশ্বরে বিশ্বাস করত না, কিন্তু এখন সে আমার পাশে বসে মায়ের নাম করে। জীবনের প্রতিটি পুজো আমি বনির সঙ্গেই কাটাতে চাই।”
এই বছর মহালয়ার সকালে দর্শক তাকে টিভির পর্দায় দেবীরূপে দেখতে পাবেন। কৌশানী তার ভক্তদের অনুরোধ করেছেন, এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি দেখতে ভুল না করতে।