মহালয়ার ভোরে টিভিতে আসছে একেবারে অন্যস্বাদের ধামাকা! হাজারও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে ইতিহাস গড়তে চলেছে এই মেগা শো

মহালয়ার পুণ্যলগ্নে ছোটদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা এবং বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এক সুতোয় বাঁধতে আত্মপ্রকাশ করল এক অভিনব প্রয়াস—‘আমাদের নবদুর্গা- ছোটদের মহালয়া ২০২৬’। শুক্রবার কলকাতার সুজাতা সদনে ‘প্রিয় দুর্গা মা’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ ও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের জমকালো প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি খুদে শিল্পীদের নিপুণ অভিনয় ও অনবদ্য উপস্থাপনায় সুজাতা সদনের মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে দেবী দুর্গার নয়টি রূপ।
প্রায় ২২০০-রও বেশি প্রতিযোগীর কড়া অডিশন পেরিয়ে নির্বাচিত ৫৪ জন শিশুশিল্পী এই মেগা মহালয়া উপস্থাপনায় অংশ নেয়। জলপাইগুড়ি, হলদিবাড়ি এবং কৃষ্ণনগরসহ বাংলার দূরদূরান্তের প্রান্ত থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান শিশুরা তাদের সহজাত দক্ষতা ও সৃজনশীলতার অনন্য নিদর্শন রেখেছে। শিশুদের এই প্রাণবন্ত অভিনয় এবং পৌরাণিক চরিত্রের চিত্রায়ণ উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের আয়োজক শ্রীমতী শুক্লা ভট্টাচার্য জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বাংলার কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশুদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার এই অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা ও আনন্দের। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ কেবল শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশই ঘটায় না, বরং তাদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে টলিউডের সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতের নামী তারকারাও উপস্থিত থেকে খুদে শিল্পীদের উৎসাহ দেন। সুজাতা সদনে সফল প্রিমিয়ারের পর এই অনুষ্ঠানটি খুব শীঘ্রই একটি জনপ্রিয় বিনোদনমূলক টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে। প্রসঙ্গত, বাংলা টেলিভিশনে ছোটদের মহালয়া বলতে এতদিন প্রধানত অ্যানিমেশনের ওপরই ভরসা রাখত দর্শক। কিন্তু সেই ধারা ভেঙে এই প্রথম লাইভ অ্যাকশনে ছোটদের নিয়ে এমন মহালয়া তৈরি করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। সাজসজ্জা, লম্বা সংলাপ মুখস্থ রাখা, ক্যামেরার সামনে সাবলীল থাকা থেকে শুরু করে শুটিংয়ের ধকল সামলানো—সব মিলিয়ে শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে অভিভাবক, পরিচালক, মেকআপ আর্টিস্ট এবং টেকনিক্যাল টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি এক ঐতিহাসিক রূপ পেতে চলেছে। আজকের ডিজিটাল যুগে ওটিটি ও স্মার্টফোনের ভিড়েও এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন বাঙালির উৎসবে এক নতুন প্রজন্মের ছোঁয়া এনে দেয়।