ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবথেকে বড় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প হতে চলেছে ‘মহাভারত’। কিন্তু এই মহাকাব্যকে রুপোলি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার আগে এক অদ্ভুত দোলাচলে ভুগছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। কেন এই কালজয়ী কাহিনী নিয়ে কাজ শুরু করতে গিয়েও থমকে যাচ্ছেন তিনি? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মনের গভীর আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন অভিনেতা।
৬০ বছর বয়সী আমির খানের কাছে ‘মহাভারত’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং একটি বিশাল সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা। তাঁর মতে, ভারতে এমন কেউ নেই যিনি ছোটবেলায় দিদিমা-ঠাকুমার কাছে এই গল্প শোনেননি। সিএনএন-নিউজ ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, “মহাভারত নির্মাণ করা আমার স্বপ্ন। কিন্তু এর সাথে জড়িয়ে আছে কোটি কোটি মানুষের আবেগ। আমি এমন কিছু করতে চাই না যা এই মহাকাব্যের অমর্যাদা করে।”
আমির মনে করেন, মহাভারতের মতো বিষয়ে বিন্দুমাত্র ভুলের অবকাশ রাখা চলবে না। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “আপনি মহাভারতকে হতাশ করতে পারেন, কিন্তু মহাভারত আপনাকে কখনো হতাশ করবে না। আপনি যদি খারাপভাবে এটি তৈরি করেন, তবেই মহাকাব্যটির অপমান হবে। আমি চাই এমন কিছু তৈরি করতে যা দেখে প্রত্যেক ভারতীয় গর্ববোধ করবেন।”
বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে ‘লর্ড অফ দ্য রিংস’ বা ‘অবতার’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রসঙ্গ টেনে আমির দাবি করেন, “বিশ্ববাসী অনেক বড় সিনেমা দেখেছে, কিন্তু মহাভারত হলো সব গল্পের মা। যদি এটি নিখুঁতভাবে তৈরি করা যায়, তবে তা বিশ্ব দরবারে ভারতীয় সিনেমাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
বর্তমানে দাদাসাহেব ফালকের বায়োপিক নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও আমিরের ইঙ্গিত, ‘মহাভারত’ হতে পারে তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের শেষ এবং শ্রেষ্ঠ কাজ। গত বছরই তিনি জানিয়েছিলেন, এই মহাকাব্য নির্মাণের পর হয়তো তাঁর মনে হবে যে অভিনেতা হিসেবে আর কিছুই করার বাকি নেই। এখন দেখার, আমিরের এই স্বপ্নের ‘সাংস্কৃতিক মিশন’ কবে সেলুলয়েডের পর্দায় প্রাণ পায়।