বাংলা বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রূপালি ভট্টাচার্য চলতি বছরের ১৩ই জুলাই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। স্বামী দেবাঙ্ককে নিয়ে হানিমুন থেকে ফিরে এসে দুজনেই নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে, সামনেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। বিয়ের পর এটি রূপালির প্রথম পূজা, তাই তার উচ্ছ্বাস যেন একটু বেশি। ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তার পূজার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন।
এবারের পুজো সম্পূর্ণ ভিন্ন
রূপালি জানান, “আমি যেহেতু অনেক বছর ধরে একা ছিলাম, পূজা আমার কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় ছিল না। সবাই যখন পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাত, আমার কাছে তেমন কিছু করার ছিল না।” কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, “এবার আমি একা নই। দেবাঙ্ক আছে আমার সঙ্গে। ওর গোটা পরিবার আমার কাছে এখন খুব আপন। এই প্রথম আমি সামাজিকভাবে পুজোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারছি।”
সিনেমা থেকে স্ট্রিট ফুড, রূপার প্ল্যান
রূপালি এবং দেবাঙ্ক দুজনেই সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন। তাই পূজার সময় যতগুলো নতুন ছবি মুক্তি পাবে, সব দেখতে যাবেন বলে ঠিক করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা প্যাণ্ডেল হপিং করি না। ওটা দেবাঙ্করও পছন্দ না।” এর পরিবর্তে তারা কাছের মণ্ডপে মায়ের দর্শন করবেন এবং রাস্তায় যাতায়াতের সময় অন্যান্য প্যাণ্ডেল দেখবেন। রূপালি ভিড় এড়িয়ে চলেন এবং ভিআইপি পাস নিয়ে লাইন পেরিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী নন। পূজার সময় বাইরে খেতে পছন্দ করেন না বলে তারা বাড়িতেই রান্না করে খাবেন। তবে ফুচকা, ভেলপুরি, পাওভাজি ও ঝালমুড়ির মতো স্ট্রিট ফুড তার খুব পছন্দের, এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
পুজোর সাজসজ্জা এবং বিজয়া দশমী
রূপালি জানান, পূজার এই কদিন তিনি শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পরেন না। অষ্টমীতে তিনি স্বামীর দেওয়া একটি বিশেষ শাড়ি পরবেন, যেটি অফ-হোয়াইট ও রানি রঙের মিশেলে তৈরি। দেবাঙ্ক পাঞ্জাবি পরবেন, তবে তারা ম্যাচিং পোশাক পরবেন না। বিয়ের পর পাওয়া অন্যান্য শাড়ি থেকেও তিনি বাকি দিনগুলো পরবেন। বিজয়া দশমীর দিন তারা দেবাঙ্কর পৈতৃক বাড়ি কাঁকিনাড়াতে যাবেন, সেখানে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং বিজয়া সেরে কলকাতায় ফিরে আসবেন।
এই পূজার সময়েই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক অর্জুন দত্ত পরিচালিত ছবি ‘বিবি পায়রা’ মুক্তি পাবে, যেখানে রূপালি ‘মলি’ নামক একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমার প্রতি তাদের ভালোবাসা এতই বেশি যে, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিনেমা নিয়ে আলোচনা করে কাটিয়ে দিতে পারেন। এই কারণেও এবারের পূজা তার কাছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক।