প্রাক্তন দম্পতি করিশ্মা কাপুর এবং সঞ্জয় কাপুরের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলায় এক নতুন দিক সামনে এসেছে। দিল্লি হাইকোর্টে দাখিল করা নথি এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে জানা গেছে, বিচ্ছেদের পরেও তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
সম্প্রতি করিশ্মা কাপুরের দুই সন্তান সামাইরা এবং কিয়ান তাঁদের প্রয়াত বাবা, শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের সম্পত্তির অংশীদারিত্ব চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলার শুনানিতে নতুন যে তথ্য সামনে এসেছে তা রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুসারে, বিচ্ছেদের পরেও সঞ্জয় কাপুর করিশ্মা এবং তাঁদের দুই সন্তানের জন্য পর্তুগিজ নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করছিলেন। একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে সঞ্জয় করিশ্মাকে জানাচ্ছেন, পর্তুগিজ পাসপোর্ট পেতে হলে ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে, কারণ ভারত দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি দেয় না। এই কথোপকথন তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি।
মামলায় করিশ্মার সন্তানদের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন যে, সঞ্জয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়া সচদেব একটি জাল উইল তৈরি করে সমস্ত সম্পত্তির অধিকার নিজের কাছে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এই উইলটি আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং সঞ্জয়ের মৃত্যুর সাত সপ্তাহ পর এটি তাজ হোটেলে প্রথমবার পড়া হয়।
অন্যদিকে, প্রিয়ার আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, করিশ্মা এবং তাঁর সন্তানরা ট্রাস্ট থেকে ইতিমধ্যেই ১,৯০০ কোটি টাকার সম্পত্তি পেয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, সঞ্জয়ের জীবনে গত ১৫ বছর ধরে করিশ্মা বা তাঁর সন্তানদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।
বিচারপতি জ্যোতি সিং মামলার সমস্ত পক্ষকে নোটিশ জারি করেছেন এবং আগামী ৯ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এই মামলা এখন শুধু সম্পত্তি বণ্টন নয়, বরং প্রাক্তন দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা এবং উইলের বৈধতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।