‘পারমিশন নয়, ইনফর্ম করব’! দাদাগিরির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তোলপাড় ফেললেন দেব

টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আওতায় আনার মহতী উদ্যোগ নিতে গিয়েই কার্যত টলিউডের অন্দরের রুদ্ধদ্বার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এনে ফেললেন সাংসদ-অভিনেতা দেব। শনিবার টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নাম নথিভুক্তকরণ পর্বে ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি সরব হলেন ‘অলিখিত ব্যান’ এবং ‘পারমিশন কালচার’-এর বিরুদ্ধে।

অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে কেন্দ্র করে ইন্ডাস্ট্রিতে যে ‘ব্যান’-এর চর্চা চলছে, তার প্রেক্ষিতে দেবের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “অনির্বাণ ব্যান হননি, ব্যান হয়েছেন কর্মহীন হয়ে পড়া শত শত টেকনিশিয়ান।” দেবের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনির্বাণের মতো শিল্পীদের কাজ আটকে যাওয়ায় বছরে অন্তত ১০০ দিনের কর্মদিবস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ১০০ জন টেকনিশিয়ান। ইন্ডাস্ট্রি যে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে, তার খতিয়ান তুলে ধরে দেব জানান, আগে যেখানে ১৩৫টি সিনেমা হতো, তা এখন নেমে এসেছে ৩০-এ। একই হাল সিরিয়াল এবং বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের ক্ষেত্রেও।

সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটান ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে। দেব অকপটে স্বীকার করেন, এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তাঁকেও ‘ব্যান’ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাহসের সঙ্গে তিনি জানান, “মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে গিয়ে যদি ব্যান হতে হয়, আমি তাতেও রাজি।” রাজ চক্রবর্তীর সিরিয়াল বন্ধের প্রসঙ্গে ‘পারমিশন’ শব্দের পরিবর্তে ‘ইনফর্ম’ করার বার্তায় তিনি ‘দাদাগিরি’-র বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।

টলিউডের এই সংঘাত এখন কেবল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন উঠছে, এই সংঘাত কি শুধুই প্রকল্পের বিতর্ক, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতার মসনদ দখলের লড়াই? দেবের এই স্পষ্টবাদী মনোভাব টলিপাড়ার পাওয়ার পলিটিক্সে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy