পকেটে মাত্র ৩৬ টাকা, আজ ১৬ কোটির সম্পত্তির মালিক! মুম্বইয়ের ফুটপাত থেকে উঠে আসা কোন বলিউড তারকার এই রূপকথার জয়যাত্রা?

বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান তাঁর বিখ্যাত ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমায় বলে গিয়েছিলেন, ‘আগর কিসি চিজ কো দিল সে চাহো তো পুরি কায়ানাত উসে তুমসে মিলানে কী কৌশিশ ম্যায় লগ যাতি হ্যায়…।’ আর এই কথাটির বাস্তব উদাহরণ যেন খোদ অভিনেতা গুরমীত চৌধুরী। আজকের দিনে বিলাসবহুল জীবন এবং ১৬ কোটি টাকার অট্টালিকার মালিক হলেও, তাঁর এই সাফল্যের পথটা এতটাও মসৃণ ছিল না। একসময় পকেটে মাত্র ৩৬ টাকা নিয়ে মুম্বইয়ের মাটিতে পা রেখেছিলেন তিনি। ১২ ক্লাস পরীক্ষা দিয়েই অভিনয় জগতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন এই তারকা। মুম্বইয়ের বুকে বছরের পর বছর মুখ বুজে অকথ্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। কাজ না পেয়ে দিনের পর দিন শুধু বিস্কুট খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁকে। কখনও মডেলিং তো কখনও জুনিয়র অ্যাক্টর হিসেবে বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউসে ঘুরে ঘুরে পোর্টফোলিও জমা দিতেন, কিন্তু কড়া সংগ্রাম সত্ত্বেও সহজে সাফল্য ধরা দিতে চায়নি।

তবে ভাগ্যের চাকা ঘোরে যখন কিংবদন্তি পরিচালক যশ চোপড়ার অফিস থেকে তাঁর কাছে কাঙ্ক্ষিত ফোন আসে। জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘রামায়ণ’-এ ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয়ের সুবর্ণ সুযোগ পান তিনি। এই একটিমাত্র মেগা প্রজেক্ট তাঁর অভিনয় জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয় এবং তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে ‘গীত: হুই সবসে পারায়ী’ এবং ‘পুনর্বিবাহ’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শক মহলে দারুণ সমাদর পায়। শুধু ছোটপর্দায় নয়, ২০১৫ সালে ‘খামোশিয়আ’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এছাড়া ‘ইয়ে কালি কালি আঁখে’-র মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজেও দুর্দান্ত অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই অভিনেতা। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বাঙালি কন্য তথা সহ-অভিনেত্রী দেবিনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ২০০৬ সালে তাঁরা গোপনে বিয়ে করলেও ২০১১ সালে তা প্রকাশ্যে আনেন। বর্তমানে দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে তাঁদের অত্যন্ত সুখের ও ভরা সংসার। অতীতে নিজেদের কঠিন সংগ্রামের দিনগুলি স্মরণ করে গুরমীত ও দেবিনা জানিয়েছিলেন যে একসময় তাঁদের সম্বল বলতে ছিল মাত্র একটি স্যুটকেস, যেখানে দুজনেরই সমস্ত জামাকাপড় রাখা থাকত। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের জোরে আজ তাঁরা কোটি টাকার ফার্মহাউজ এবং ১৬ কোটি টাকার রাজপ্রাসাদের মালিক। শূন্য থেকে শুরু করে গুরমীত চৌধুরীর এই রূপকথার উত্থান আজ হাজার হাজার তরুণ স্বপ্নদ্রষ্টাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে চলেছে।