ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বলিউড! ‘আমার ধরম চলে গেল,’—অভিনেতার শেষ স্মৃতি ও প্রাণের বন্ধুত্বের গল্প বললেন সহকর্মী

বলিউডে যেন একটা যুগের সমাপ্তি। অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর (Dharmendra) মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সর্বত্র। প্রয়াত বন্ধু, সহ-অভিনেতা এবং হিন্দি ছবির ‘হি ম্যান’ ধর্মেন্দ্রর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভেঙে পড়লেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী।
তিনি জানান, পাঞ্জাবের এক গ্রাম থেকে এসে শুধুমাত্র নিজের অধ্যবসায় ও অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে ধরম বলিউডকে জয় করেছিলেন। “আমরা একই সময়ে মুম্বইয়ে এসেছি। আমাদের মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্ব ছিল, এক থালায় খেতাম, এক বিছানায় শুতাম। সেই সব স্মৃতি বলে শেষ করা অসম্ভব।”
‘অগ্নিযুগ’–এ ডামি নিতেও নারাজ ছিলেন ধরম
প্রয়াত বন্ধুর অভিনয় নিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র তাঁর পরিচালনায় ‘ক্যাহেতে হ্যায় মুঝকো রাজা’ ছবিতে কাজ করেছেন। এমনকি, তাঁর আসন্ন ছবি ‘অগ্নিযুগ: দ্য ফায়ার’-এও পাঞ্জাবের লালা লাজপত রাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ধরম। এই বয়সেও তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন এই অভিনেতা।
তিনি বলেন, “শ্যুটিংয়ে অনেক অ্যাকশন দৃশ্য ছিল। আমি ডামি দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ধরম তা নেয়নি। বলেছিল, ‘যা করব নিজেই করব।’ ব্রিটিশদের লাঠিচার্জের দৃশ্যেও ডামি চাননি। সত্যিই পাওয়ারফুল ম্যান ছিল আমার ধরম।”
টেকনিশিয়ানদের জন্য লড়তেন ধর্মেন্দ্র
তাঁর কথায়, ধর্মেন্দ্র ছিলেন সততা আর নিষ্ঠার প্রতীক। তিনি ছোট প্রোডিউসারদের সব সময় সাপোর্ট দিতেন এবং বলতেন, “টাকার জন্য ভেবো না।” টেকনিশিয়ান বা জুনিয়র আর্টিস্টদের দিকে তাঁর নজর থাকত। প্রযোজকদের বলতেন, “আগে ওদের টাকা দিন, তারপর আমি কাজ করব।” তিনি অন্যায় সহ্য করতেন না, রুখে দাঁড়াতেন।
এক থালায় খাওয়া-ঘুমোনো থেকে শুরু করে গোয়াতে শুটিংয়ে সানিকে নিয়ে যাওয়ার স্মৃতি, মেকআপ রুম শেয়ার করা—সবই আজ ভিড় করছে। স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ববি সেদিন বলছিল, ধরম একবার দেরি করে শুটিংয়ে এসে বলেছিল, ‘আমার বাড়িতে একজন নতুন মেহমান এসেছে, আর সেটা তুমি ববি।’ কত কথা আছে ওকে নিয়ে!”
ভুল খবর রটার পরেও কেন চলে গেলেন?
সম্প্রতি ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর ভুল খবর রটে গিয়েছিল। শোকস্তব্ধ বন্ধু প্রশ্ন তুলেছেন, “লোকে বলে ভুল খবর রটলে নাকি আয়ু বেড়ে যায়। ধরমের ক্ষেত্রে সেটা হল না তো? ও তো চলেই গেল সেই ভুল খবরের পরেই।”
প্রয়াত বন্ধুর পরিবার থেকেই যখন তাঁর মৃত্যুর খবর দেরিতে মিডিয়া ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়, তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান। সানি ও ববিকে বাচ্চাদের মতো তাঁর কাঁধে মাথা রেখে কাঁদতে দেখেন তিনি। “ধোঁয়া উড়ছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম—একটা যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে…”