‘তুুম্বাড ২’ নিয়ে সবচেয়ে বড় তথ্য ফাঁস! প্রথম পার্ট ফ্লপ হওয়ার পর কেন সিক্যুয়েল আনছেন সোহাম শাহ?

আট বছর আগে যখন ‘তুুম্বাড’ প্রথমবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল, তখন ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই ভৌতিক ও রহস্যময় সিনেমার ভক্তসংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে একটি বিশেষ অনুরাগী গোষ্ঠী বা ‘কুল্ট ফলোয়িং’ তৈরি করেছে এই ছবি। এবার সেই অভিশপ্ত এবং গা ছমছমে রহস্যময় জগতে দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত অভিনেতা ও প্রযোজক সোহাম শাহ। ‘তুুম্বাড ২’ নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে সবার মনে একটাই প্রশ্ন—নতুন কি আসতে চলেছে সিক্যুয়েলে? এটি কি প্রথম পর্বের চেয়েও বেশি ভয়াবহ হতে চলেছে? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই বিষয়ে মুখ খুলেছেন সোহাম শাহ।

ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোহাম শাহ জানান, চিত্রনাট্য লেখার জন্য সময় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, কোনো ভালো গল্পকে তাড়াহুড়ো না করে ধিমে আঁচে পাকতে দেওয়া উচিত। সোহাম বলেন, “তুুম্বাড ২-এর মূল ভাবনা তৈরি করতেই আমার অনেক সময় লেগেছে। একটি সাধারণ গল্প খুঁজে পাওয়া হয়তো সহজ, কিন্তু তাকে একটি সম্পূর্ণ স্ক্রিনপ্লে বা চিত্রনাট্যে রূপ দেওয়া বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। প্রথম ছবিটি দর্শকরা ভালোবেসেছেন বলেই আমি কেবল ব্যবসার খাতিরে সিক্যুয়েল বানাতে চাইনি। আমি এমন একটি সিনেমা বানাতে চেয়েছিলাম যা সম্পূর্ণ আলাদা এবং নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।” তিনি জানান, ‘তুুম্বাড ২’-এর গল্প ও চিত্রনাট্য সাজাতে তাঁর টানা পাঁচ বছর সময় লেগেছে।

প্রথম ছবি মুক্তির দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে সোহাম অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, প্রথম দিনের বক্স অফিস কালেকশন দেখার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। নিজের ভাইকে ফোন করে কেঁদে ফেলে বলেছিলেন যে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। সেই দুটো দিন তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময় ছিল। তবে মুক্তির তৃতীয় বা চতুর্থ দিন থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ছবিটির আয় কিছুটা বাড়ে এবং চলচ্চিত্র জগতের গুণীজনেরা তাঁর কাজের প্রশংসা করতে শুরু করেন।

পরবর্তীকালে করোনা মহামারী ও লকডাউনের সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। এমনকি একদিন অকারণেই টুইটারে (বর্তমানে এক্স) ট্রেন্ড করতে শুরু করে ‘তুুম্বাড’। তখনই সোহাম বুঝতে পারেন যে সিনেমাটি সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পেরেছে। সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে রি-রিলিজের পর ছবিটির অভূতপূর্ব সাফল্য প্রমাণ করেছে যে ‘তুুম্বাড ২’-এর জন্য দর্শক কতটা ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছেন।