রোগা হওয়ার স্বপ্নে ১ মাসে ১২ হাজার টাকার ধাক্কা! অর্গানিক খাবারের ফাঁদে পকেট খালি লখনউয়ের তরুণীর

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিও দেখে এবং তাঁদের ‘ক্লিন ইটিং’ ডায়েট প্ল্যান অন্ধভাবে অনুসরণ করতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পকেটের মারাত্মক ক্ষতি করছেন বহু মানুষ। ঠিক যেমনটা ঘটেছে লখনউয়ের একটি আইটি কোম্পানিতে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী সালোনি সঙ্গে। ওজন কমানোর নেশায় তিনি তাঁর নিয়মিত পোহার প্যাকেট বাদ দিয়ে ৩৫০ টাকার অর্গানিক ব্রাউন রাইস ফ্লেক্স, সাধারণ লবণের বদলে ২৫০ টাকার পিঙ্ক সল্ট এবং চিনির বদলে ৪৫০ টাকার ভেগান স্টিভিয়া ড্রপস কেনেন। ফলে তাঁর মাসিক রেশনের খরচ ৪,০০০ টাকা থেকে একলাফে ১২,০০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ এক মাস এই অতি-উৎসাহী খাবার খেয়েও তাঁর ওজন বিন্দুমাত্র কমেনি, উল্টে আমন্ড মিল্ক খেয়ে পেটের সমস্যা আরও বেড়ে গেছে।
সালোনির এই ঘটনাটি আসলে বর্তমান সমাজের একটি বিপজ্জনক প্রবণতাকে তুলে ধরে। ব্যবসা ও বাজার গবেষণা সংস্থা অ্যাভেন্ডাস ক্যাপিটালের মতে, ভারতে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক খাবারের বাজার ২০২৬ সালের মধ্যে আনুমানিক ২.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। অর্গানিক, ন্যাচারাল, গ্লুটেন-ফ্রি এবং ডিটক্সের মতো গ্ল্যামারাস লেবেল ব্যবহার করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলি এখন কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ফাঁদছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সুস্থ থাকার জন্য কি সত্যিই এত দামী পণ্যের প্রয়োজন আছে, নাকি এটি কোম্পানিগুলোর নতুন বিপণন কৌশল?
বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ডঃ গীতিকা চোপড়া বলছেন যে, স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দামী বা আমদানি করা পণ্যের কোনো প্রয়োজন নেই; বরং বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং খাদ্যাভ্যাসে ধারাবাহিকতাই হলো আসল চাবিকাঠি। তাঁর মতে, ৮০ টাকার সাধারণ চাল আর ২০০ টাকার জৈব চালের মধ্যে ক্যালোরি বা প্রোটিনের খুব একটা আকাশপাতাল তফাৎ থাকে না। একইভাবে, ৫০০ টাকার ফ্যাশনেবল টারমারিক ল্যাটের চেয়ে ঘরের সাধারণ হলুদ-দুধ অনেক বেশি পুষ্টিকর। এমনকি ৫০০ টাকার বিদেশি ব্রকলির বিকল্প হিসেবে আমাদের সস্তার স্থানীয় বাঁধাকপিও সমান পুষ্টি জোগায়।
ডঃ চোপড়া জোর দিয়ে বলেন, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় থালি—যেমন ডাল, ভাত, রুটি, শাকসবজি, দই ও রাজমা—সঠিক ভারসাম্যে খেলে তা একটি চমৎকার সুষম খাদ্য। সুস্থ থাকার রহস্য কোনো বিলাসবহুল প্যাকেটের ভেতরের উপাদানে বন্দী নয়। বাজার থেকে অতি-প্রক্রিয়াজাত ভাইরাল ডায়েট প্রোডাক্ট বা গ্লুটেন-ফ্রি লেবেলযুক্ত দামী সামগ্রী না কিনে আমাদের স্থানীয় ও মরশুমী ফল-শাকসবজি এবং ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের ওপর আস্থা রাখা উচিত।