যেখানে পুড়ল না রাবণ! জানেন ভারতের কোন কোন রাজ্যে দশেরার দিনে পুজো পান লঙ্কার রাজা?

অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্যের জয়ের প্রতীক হিসেবে সারা দেশজুড়ে যখন জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয় বিজয়া দশমী বা দশেরা, ঠিক তখনই ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখা যায়। আগামী ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ মঙ্গলবার দেশজুড়ে পালিত হবে দশেরা। এই বিশেষ দিনে ঐতিহ্য মেনে রামচন্দ্রের হাতে রাবণ বধের উল্লাসে যখন চারপাশ মুখরিত হবে, তখন দেশের এমন কিছু নির্দিষ্ট এলাকা রয়েছে যেখানে রাবণের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো তো দূরের কথা, বরং তাঁকে পরম আদরে পুজো করা হয়। রামায়ণের এই খলনায়ক কীভাবে কিছু জায়গায় পূজিত হন, তা জানলে চমকে উঠবেন।
উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার বিসরাখ গ্রামটি রাবণের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণের পিতা ঋষি বিশ্বরবার নামানুসারেই এই গ্রামের নামকরণ হয়েছে। এখানকার বাসিন্দারা রাবণকে লঙ্কার রাজা হিসেবে নয়, বরং তাঁদের গ্রামের পুত্র এবং পূর্বপুরুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। ফলে এই গ্রামে কোনো দিনই রাবণ দহন করা হয় না।
অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার বৈজনাথ এমন এক স্থান, যেখানে ভগবান শিবকে প্রসন্ন করতে রাবণ কঠোর তপস্যা করেছিলেন। শিবভক্ত রাবণের এই পন্ডিত ও শক্তিশালী সত্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এখানে তাঁকে পোড়ানোর পরিবর্তে অন্য ঐতিহ্য মানা হয়। মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌর আবার রাবণের স্ত্রী মন্দোদরীর পিত্রালয় হিসেবে পরিচিত। সেই সূত্রে স্থানীয়রা রাবণকে তাঁদের ‘জামাতা’ হিসেবে গণ্য করেন। এই কারণে সেখানে রাবণ দহন না করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং মৃত্যুতে শোক পালন করা হয়।
রাজস্থানের যোধপুরের মান্ডোর এলাকায় রাবণকে কেন্দ্র করে রয়েছে একাধিক মন্দির। এখানকার নাগর ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিজেদের রাবণের বংশধর বলে দাবি করেন এবং দশেরার দিনে তাঁর পুজোয় ব্রতী হন। পাশাপাশি, মহারাষ্ট্রের অমরাবতী ও গড়চিরোলি জেলার গোণ্ড ও কোরকু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ রাবণ ও তাঁর পুত্র মেঘনাথকে তাদের পূর্বপুরুষ বা দেবতা হিসেবে মানেন। এই জনপদগুলিতেও প্রথা মেনে রাবণ দহন নিষিদ্ধ। ভারতের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি প্রমাণ করে যে, পৌরাণিক চরিত্রের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অঞ্চলভেদে কতটা ভিন্ন হতে পারে।