“ট্রোলিংয়ে পাত্তা দিই না,” স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস

টলিপাড়ার ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে চলা বর্তমান উত্তাপের মাঝেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এল বড়সড় খবর। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে ইতি টেনে আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন স্বরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর স্ত্রী তথা দক্ষিণ কলকাতার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস। ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জুঁই নিজেই এই বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জুঁই বিশ্বাসের কথায়, এই সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া নয়। ২০১৯ সাল থেকেই তাঁরা একে অপরের থেকে আলাদা থাকছেন। চলতি বছরের শুরুতেই তাঁরা আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছেন এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আইনিভাবে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হবেন।

ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টলিপাড়ায় যে ধরনের অভিযোগ—যেমন ‘দাদাগিরি’, কাটমানি, এবং শিল্পী-কলাকুশলীদের ব্যান করার হুমকি—এসব প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জুঁই বিশ্বাস জানান, টলিপাড়ার বিষয়ে তিনি একেবারেই আগ্রহী নন। ২০১০ সাল থেকে তিনি কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু স্বরূপ বিশ্বাসের কাজের বা ফেডারেশনের কোনো প্রোগ্রামে তাঁকে কখনও দেখা যায়নি। জুঁইয়ের দাবি, স্বরূপ বিশ্বাসের ব্যক্তিগত বা পেশাগত কাজের দায়ভার তাঁর ওপর বর্তায় না। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাড়িতেও বিশেষ আলোচনা হতো না বলেই তিনি দাবি করেন।

তবে এই বিচ্ছেদের ঘটনায় তাঁদের দুই কন্যা—একজন ১২ ও অন্যজন ৮ বছরের—মানসিক পরিস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। দুই সন্তানের কথা ভেবেই এতদিন এই ব্যক্তিগত বিষয় জনসমক্ষে আনতে চাননি জুঁই। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি চাই না আমার মেয়েরা কোনো ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাক। বাচ্চাদের কথা ভেবেই আমি আজ অবধি কোথাও এই নিয়ে মুখ খুলিনি।”

প্রসঙ্গত, অতীতে মেসি-কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের সমালোচনা নিয়েও কম চর্চা হয়নি। সেই সময়ে মেসির পাশে তাঁর কন্যাদের ছবি তোলা নিয়ে জুঁইকে তীব্র ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে জুঁই বলেন, সেদিন তাঁকে যেখানে বসতে বলা হয়েছিল, তিনি সেখানেই বসেছিলেন। ট্রোলারদের মানসিকতা নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, যারা সারাদিন সোশাল মিডিয়ায় বসে ট্রোল করেন, তাদের কাজের অভাব রয়েছে।

রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে জুঁই বিশ্বাস জানান, দল বদল বা বর্তমান সরকার নিয়ে তিনি গঠনমূলক কাজ করতেই আগ্রহী। তিনি বলেন, “পালাবদল হয়েছে এক মাসও হয়নি। আমি চাই নতুন সরকার ভালোভাবে কাজ করুক। মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে সবরকমের সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।” স্বরূপ বিশ্বাসের টলিপাড়ার কর্মকাণ্ড এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই বিচ্ছেদের ঘটনা এখন রাজনৈতিক ও সিনে মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।