টালিগঞ্জে ধুন্ধুমার! গিল্ড বিভ্রাটে রণক্ষেত্র টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও, ইটের বৃষ্টিতে রক্তাক্ত কলাকুশলীরা!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ঘোষণা ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল টালিগঞ্জ। ২৬টি ছোট-বড় গিল্ড ভেঙে মাত্র চারটি গিল্ডের অধীনে একটি নতুন সংস্থা—‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কালচারাল কনফেডারেশন’ (EIMPCC) গঠনের ঘোষণা করেছেন বিজেপি বিধায়ক তথা এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট পাপিয়া অধিকারী। তাঁর দাবি, অগণিত গিল্ডের কারণে কাজের ক্ষেত্রে যে জটিলতা ও দুর্নীতি দানা বেঁধেছে, তা নির্মূল করতেই এই সংস্কারের পথে হাঁটছেন তিনি। স্বচ্ছতা ফেরানো এবং যোগ্য কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। তবে এই পরিবর্তনের ঘোষণার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই টালিগঞ্জের পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল।

পাপিয়া অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, নতুন এই কাঠামোর মধ্যে ক্যামেরা, ডিরেক্টর ও প্রোডাকশন কন্ট্রোলার বিভাগ থাকছে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আর্ট অ্যান্ড কস্টিউম বিভাগ নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তিনি। কিন্তু এই একতরফা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেননি কলাকুশলীদের একটি বড় অংশ। টেকনিশিয়ানদের অভিযোগ, তাঁদের কোনো মতামত বা আলোচনা ছাড়াই এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তাঁদের পেশাদার জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে জড়ো হন হাজার-দেড়েক কলাকুশলী। স্টুডিও চত্বরে প্রেস কনফারেন্সে বাধা পেয়ে তাঁরা পার্শ্ববর্তী একটি মাঠে জমায়েত করেন। অভিযোগ, সেই সময় একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি ইট ও ডিম ছুড়তে থাকে। এমনকি কলাকুশলীদের মারধর করারও অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই হামলাকারীরা নিজেদের ‘পাপিয়া অধিকারীর লোক’ বলে পরিচয় দিয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন হেয়ার ড্রেসারকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। প্রোডাকশন ম্যানেজার অভিজিৎ সাহা জানান, তাঁরা শুধু তাঁদের অভাব-অভিযোগ বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের কণ্ঠরোধ করা হলো।

অন্যদিকে, ফেডারেশন ভেঙে কনফেডারেশন তৈরির বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পাপিয়া অধিকারী। তিনি এই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, তাঁর নাম ব্যবহার করে ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে। সোমনাথ কুণ্ডুর মতো জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কলাকুশলীদের প্রশ্ন, এত বছরের পুরনো সংগঠনগুলো ভেঙে দেওয়ার আগে আলোচনার প্রয়োজন ছিল না কেন? সব মিলিয়ে সংস্কারের নামে টালিগঞ্জের এই সংঘাত এখন চরম আকার নিয়েছে। শিল্পীদের একাংশ যেমন এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, তেমনি অন্য অংশ এটিকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ বলে অভিযোগ তুলেছেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে কোন পথে নিয়ে যায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy