“জয় মা দুর্গা!” তনুজা ও বোন তানিশাকে নিয়ে মণ্ডপে হাজির কাজল, প্যান্ডেলে ফ্যামিলি গোলস দেখে মুগ্ধ ভক্তরা

শারদোৎসবের আনন্দ আর জৌলুসে এখন ভাসছে গোটা দেশ। আর বলিউডের অন্দরে দুর্গাপুজো মানেই সবার আগে উঠে আসে মুখার্জি পরিবারের নাম। প্রতি বছরের মতো এবারও মুম্বইয়ের বিখ্যাত নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে সাবেকি মেজাজে ধরা দিলেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তনুজা এবং বোন তানিশা মুখার্জি। তিন প্রজন্মের এই পারিবারিক উপস্থিতি ও সাবেকি সাজের উষ্ণতা মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কেড়েছে অনুরাগীদের।
এদিন কাজলকে দেখা গেল সম্পূর্ণ সাবেকি বাঙালি সাজে। সোনালি কাজের কাজ করা সিঁদুরে লাল রঙের একটি সুন্দর শাড়িতে তিনি অনন্য রূপ ফুটিয়ে তুলেছিলেন। কপালে ছোট টিপ ও খোঁপায় মোড়ানো চুলে কাজলের এই অবয়ব যেন উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে, বোন তানিশা মুখার্জি নীল রঙের ফ্লোরাল জামদানি শাড়িতে নজর কেড়েছেন। দুই বোনের ভিন্ন অথচ ঐতিহ্যবাহী এই সাজ মণ্ডপের প্রাণবন্ত পরিবেশের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে গিয়েছিল। একা কিংবা পরিবারের সঙ্গে—সব ছবিতেই তাঁদের হাসিমুখ অনুরাগীদের মন জয় করে নিয়েছে।
পরিবারের সঙ্গে কাটানো এই বিশেষ মুহূর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মা তনুজার প্রতি কাজলের ভালোবাসার প্রকাশ। একটি ভাইরাল ছবিতে কাজলকে তাঁর মা তনুজার গালে সস্নেহে চুমু খেতে দেখা গেছে। গ্ল্যামার দুনিয়ার সমস্ত চাকচিক্য দূরে সরিয়ে ক্যামেরার সামনে এই খাঁটি পারিবারিক উষ্ণতা ও আবেগ সত্যি মন ছুঁয়ে যায়। তনুজার উপস্থিতি এই উদযাপনের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মুখার্জি পরিবারের কাছে দুর্গাপুজো মানে কেবল উৎসব বা প্রদর্শনী নয়, বরং শেকড়ের টান এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ।
মুম্বইয়ের বাঙালি সম্প্রদায়ের সঙ্গে দুর্গাপুজোর এই আত্মিক সংযোগ বহু পুরনো। প্রতি বছরই এই মণ্ডপে কাজলের উপস্থিতি ভক্তদের কাছে আকرسণের কেন্দ্রবিন্দু থাকে। শুধু সাজপোশাকই নয়, উৎসবের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপ ও নারীশক্তির জয়গান গেয়ে অনুরাগীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কাজল। “জয় মা দুর্গা” বার্তা দিয়ে তিনি মা, রক্ষাকর্ত্রী এবং শক্তির নানা রূপকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, লাল-সোনালি শাড়ি, নীল জামদানির আভিজাত্য আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো মিষ্টি মুহূর্তের এই মেলবন্ধন ফের প্রমাণ করল যে মুখার্জি পরিবার আজও ট্র্যাডিশনকে কতটা গভীরভাবে ভালোবেসে চলে।