আমি কারও হাতের পুতুল নই! বিজেপিকে নিয়ে বোমা ফাটালেন খোদ সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত!

বিনোদন জগত থেকে শুরু করে রাজনীতির ময়দান—অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত এবং বিতর্ক যেন একে অপরের পরিপূরক। এর আগেও নানা সময় নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ, কৃতী শ্যাননের পোশাক নিয়ে মন্তব্য কিংবা বাবা রামদেবের সঙ্গে বাদানুবাদের জেরে খবরের শিরোনামে এসেছেন তিনি। তবে এবার মাণ্ডি লোকসভা কেন্দ্রের এই বিজেপি সাংসদ নিজের রাজনৈতিক সত্তা এবং ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্পষ্ট এক ডার্ক হর্স মেজাজে মুখ খুলেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের সঙ্গে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তিনি কখনোই কারও হাতের আজ্ঞাবহ পুতুল হয়ে থাকবেন না।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা সোজাসাপ্টা জানান, দীর্ঘ ২০ বছরের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়, যা মাত্র দুই বছরের রাজনৈতিক কেরিয়ারের চেয়ে অনেক বেশি ভারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। দলের চিন্তাভাবনার বাইরে ইচ্ছাকৃতভাবে হাঁটার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর না থাকলেও, কোনো সংবেদনশীল ইস্যুতে নিজস্ব ও স্বাধীন মতামত প্রকাশ করা তাঁর পুরনো স্বভাব। বিজেপি আজ তাঁর পাশে রয়েছে, কাল নাও থাকতে পারে—কিন্তু ব্যক্তি কঙ্গনার নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র মূল্যবোধ ও সত্তা রয়েছে।
সংসদে পা রাখার পরেও বলিউডের সঙ্গে তাঁর সুদৃঢ় আত্মিক বাঁধন যে একটুও আলগা হয়নি, সেকথাও জোরালোভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন এই তারকা। তাঁর মতে, বহু প্রথম সারির নামী পরিচালক আজও তাঁকে নিয়ে ছবি তৈরি করার জন্য মুখিয়ে থাকেন এবং প্রায়ই আক্ষেপ করে জানতে চান কেন তিনি অভিনয়ের দুনিয়া ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে মন দিয়েছেন। তবে রুপোলি পর্দায় প্রত্যাবর্তন করলেও তিনি কোনো শর্তযুক্ত সমীকরণে পা রাখবেন না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো খান বা কুমারের ছায়া হয়ে কাজ করবেন না; বরং নিজের বয়সের সঙ্গে মানানসই অভিনেতাদের সঙ্গেই স্ক্রিন শেয়ার করবেন। আগামীর পরিকল্পনা ছকবাঁধা না রাখতে চাইলেও, নিজের প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে তিনি সৃজনশীল স্বাধীনতার চর্চা নিরন্তর চালিয়ে যাবেন।