দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা (NSD) থেকে অমিতাভ বচ্চন, ওম পুরী, ইরফান খান এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠীর মতো অনেক তারকারা উঠে এসেছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম বাঙালি হিসেবে পাস আউট করেছেন কে? তিনি হলেন অভিনেতা অভিজিৎ লাহিড়ী। ১৯৮০ সালে তিনি এনএসডি থেকে স্নাতক হন এবং তারপর থেকেই থিয়েটার, টেলিভিশন এবং বলিউডের দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
থিয়েটারের মঞ্চ থেকে শুরু করে, অভিজিৎ ‘ইয়ে রিস্তা কেয়া কহেলাতা হ্যায়’, ‘বালিকা বধূ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও ‘বেল বটম’, ‘দ্য বিগ বুল’, ‘ট্যাঙ্গো চার্লি’-র মতো সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কলকাতায় ফিরেও তিনি অভিনয়ের মাস্টার ক্লাস করিয়ে থাকেন।
মুম্বইয়ে অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা করে নেওয়া অভিজিতের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি বলেন, “আমার বাবা ছিলেন একজন নৃত্যশিল্পী। কিন্তু সংসার চালানোর জন্য নাচ ছেড়ে দিতে হয়েছিল। আমি গান শিখেছি পণ্ডিত হরিহর শুক্লার কাছে, কিন্তু আমার ইচ্ছে ছিল এমন কিছু করার, যেখানে নাচ, গান এবং অভিনয় সবকিছু একসাথে মিশে যাবে। এরপর আমি থিয়েটারে যোগ দিই।”
১৯৭৩-৭৪ সালে থিয়েটারের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অভিনয়ের স্কলারশিপের সুযোগের কথা জানতে পারেন। তিনি পরীক্ষা দেন এবং নির্বাচিতও হন। তার সতীর্থ রমাপ্রসাদ বণিক কলকাতার শম্ভু মিত্রের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কারণে তাকে কলকাতায় রাখা হলেও, অভিজিৎকে যেতে হয় দিল্লিতে। এভাবেই তিনি প্রথম বাঙালি হিসেবে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে পাস আউট হন।
এনএসডি থেকে পাস করার পর অভিজিৎ কলকাতায় ফিরে থিয়েটার নিয়ে কাজ শুরু করলেও সফল হতে পারেননি। ঋণের বোঝায় ডুবে তিনি যাত্রাপালার জগতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে খ্যাতি অর্জন করেন। এরপর সুযোগ এলে ফিরে যান দিল্লিতে, কারণ যাত্রার চেয়ে থিয়েটার তার কাছে বেশি প্রিয় ছিল। ছয় বছর পর মুম্বইয়ে গিয়ে একটি ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পান, যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
মুম্বইয়ে এত বছর ধরে সফলভাবে কাজ করার পরেও বাংলায় কাজ না পাওয়ায় অভিজিৎ কিছুটা হতাশ। তিনি বলেন, “বাংলার পরিচালকরা যদি কাজ না দেন, তাহলে আমি কী করতে পারি? আমি বাঙালি বলেই কি কাজ পাচ্ছি না? তারা নন-বেঙ্গলিদের নিয়ে কাজ করাবে, কিন্তু আমাকে ডাকবে না। আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের অংশ নই এবং তেল দিতেও জানি না।”
অভিজিৎ জানান, অক্ষয় কুমারের ‘বেল বটম’ এবং মনোজ বাজপেয়ীর ‘সির্ফ এক বান্দা কাফি হ্যায়’-এর মতো সিনেমায় তাকে কোনো অডিশন দিতে হয়নি, কারণ পরিচালকরা তার আগের কাজ দেখেছেন। তারপরও বাংলার পরিচালকরা তাকে ডাকেন না বলে তার আক্ষেপ।
রাজনীতি প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেন, “অভিনেতা-অভিনেত্রীদের টাকার লোভে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়। এনএসডি-র মতো সরকারি জায়গাও এখন রাজনীতির শিকার। সরকার থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে কোন ধরনের নাটক করতে হবে। এনএসডি তার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছে। এর থেকে খারাপ আর কী হতে পারে?”
বর্তমানে, অভিজিৎ লাহিড়ী কলকাতা, পুণে, মুম্বই সহ বিভিন্ন শহরে অভিনয়ের ওয়ার্কশপ নিয়ে ব্যস্ত। অনলাইনেও তিনি অভিনয়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।