আত্মহত্যার চেষ্টার ৬ মাস পর মুখ খুললেন পাইলট স্বামী, গায়িকা দেবলীনার বিরুদ্ধে আনলেন বিস্ফোরক অভিযোগ!

বছরের গোড়ার দিকে গায়িকা দেবলীনা নন্দীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল টলিপাড়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিখুশি দাম্পত্যের আড়ালে যে এত বড় অশান্তি লুকিয়ে ছিল, তা প্রকাশ্যে আসতেই হতবাক হয়েছিলেন অনুরাগীরা। গানের শো করে ফেরার পথে ঘুমের ওষুধ খেয়ে জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন দেবলীনা। ঘটনার পর থেকেই গায়িকা তাঁর স্বামী, পেশায় পাইলট প্রবাহ নন্দীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন। তবে সেই সময় প্রবাহ পুরোপুরি নীরব ছিলেন। দীর্ঘ ছ’মাস মিডিয়ার ফোন এড়িয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মুখ খুললেন প্রবাহ নন্দী।

একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে প্রবাহ নিজের এবং দেবলীনার দাম্পত্য জীবনের বিস্ফোরক সব তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রবাহের দাবি, দেবলীনা স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত রাগী বা ‘শর্ট টেম্পারড’। পাইলট স্বামীর কথায়, “দেবলীনা আমাকে চড় মারত, আবার পরক্ষণেই পা ধরে ক্ষমাও চাইত। আমাদের বেড়াতে যাওয়ার সময়েও কথা কাটাকাটি চলত। ও চাইত আমি যেন ওর সব কথায় ‘হ্যাঁ’ বলি।” প্রবাহ আরও জানান, দেবলীনার মধ্যে এক ধরনের জেদ কাজ করত, যা থেকে এই অশান্তির সূত্রপাত।

পাশাপাশি, প্রবাহ তাঁর বিরুদ্ধে আনা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ খণ্ডন করেছেন। তিনি জানান, দেবলীনা প্রায়ই তাঁকে জীবন শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিতেন। প্রবাহের বিস্ফোরক মন্তব্য, “ও মদ খেয়ে বলত যে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে মরতে চায়। ও কি কোনও আদালত? ও সব সময় বলত, হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবে, নয়তো জীবন শেষ করে দেবে। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের হুমকিও দিত।” এই ঘটনার ফলে তাঁর পরিবার যে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল, তাও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন প্রবাহ।

এদিকে, প্রবাহের এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি পুরনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে গায়িকাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “গাড়িতে ঘুমের ওষুধ আছে, আমাকে এনে দে, রোজ-রোজ মরার চেয়ে একেবারে মরে যাই…” ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন এক পরিচিত নারী। এই ভিডিওটি সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, দাম্পত্যের এই টানাপোড়েন কি নেপথ্যে অনেক পুরনো কোনো সমস্যার ফসল?

দেবলীনা এবং প্রবাহ—দুজনই এখন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কাঠগড়ায়। একজন যেখানে নির্যাতনের অভিযোগ আনছেন, সেখানে অন্যজন অভিযোগ করছেন মানসিক ব্ল্যাকমেলিংয়ের। টলিপাড়ার এই দম্পতির ব্যক্তিগত জীবনের সমীকরণ যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তা যেমন হতাশাজনক, তেমনই রহস্যময়। তদন্ত বা আইনি লড়াইয়ের বাইরেও এই সম্পর্কের ভেতরে যে এক গভীর ক্ষত রয়ে গিয়েছে, তা এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট। আপাতত, দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী বয়ান প্রকাশ্যে আসার পর বল এখন বল এখন সাধারণ মানুষের কোর্টে।