আমেরিকা-ইরান ‘শান্তি চুক্তি’র পথে? হরমুজ প্রণালী ও আটকে থাকা সম্পদ নিয়ে বড় ঘোষণা তেহরানের!

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ কি অবশেষে নামতে চলেছে? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় মোড় নিল আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক। যুদ্ধের দামামা থেকে বেরিয়ে এখন কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলই হয়ে উঠেছে প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (Islamabad Memorandum of Understanding) নামক এক প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন, যা কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই চুক্তি কেবল বর্তমান সংঘাতেরই অবসান ঘটাবে না, বরং ভবিষ্যতে সমুদ্র নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির পথও প্রশস্ত করবে। তবে এখনও চূড়ান্ত সই না হলেও, তিনি এই চুক্তির ভিত্তি হিসেবে পাঁচটি প্রধান বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন:

প্রথমত, এটি একটি দুই-ধাপের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। ইরান ও আমেরিকা সম্মত হয়েছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত অত্যন্ত জটিল বিষয়গুলো আপাতত দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হবে। প্রথম ধাপে এমন বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতা হবে যেখানে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব। দ্বিতীয় ধাপের এই আলোচনা ৬০ দিন ধরে চলার কথা।

দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থান। আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী আর যুদ্ধের আগের মতো পরিস্থিতিতে ফিরবে না। এই জলপথ, যা বিশ্বের তেল পরিবহনের মেরুদণ্ড, তা নিয়ে এখন থেকে নতুন নিরাপত্তা নীতি কার্যকর হবে।

তৃতীয়ত, ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান। দীর্ঘ ৪৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম আমেরিকা লিখিতভাবে ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তেহরানের কাছে একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়।

চতুর্থত, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার গ্যারান্টি দিয়েছে। যুদ্ধের আবহে যা ছিল এক চরম অনিশ্চয়তার জায়গা, তা এখন স্থিতি পাওয়ার পথে।

পঞ্চমত, ইরানের আটকে থাকা সম্পদ (Frozen Funds)। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশে ইরানের যে বিপুল অর্থ আটকে ছিল, তা মুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। এই সম্পদ মুক্তি পেলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা এবং ইরান—দুই দেশের পক্ষ থেকেই এই চুক্তি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে যে অনেকটাই বদলে দিতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনা পর্বে দুই দেশ কতটা ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেয়।