আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী! গত তিন মাসের নরক যন্ত্রণার কথা ফাঁস করতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

টেলিভিশনের পর্দা থেকে ইউটিউবের জগৎ— সায়ক চক্রবর্তীর জার্নিটা রূপকথার মতো মনে হলেও, পর্দার আড়ালের লড়াইটা ছিল চরম হতাশাজনক। অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ থেকে আজ তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছেও গত তিন মাস যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে সায়ক নিজের জীবনের চরমতম সত্যটি প্রকাশ্যে এনেছেন।

নিজের ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক হ্যান্ডেলে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে সায়ক লিখেছেন, ‘জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ— এই তিন মাসে নিজেকে অনেকবার শেষ করে দেওয়ার কথা ভেবেছি।’ সায়কের এই স্বীকারোক্তি মুহূর্তে শোরগোল ফেলেছে নেটদুনিয়ায়। জীবনের এই কঠিন সময়ে তিনি কেবল একাকীত্বের শিকারই হননি, বরং চারপাশের মানুষের মুখোশও খুলে গিয়েছে তাঁর সামনে।

গত কয়েক মাসে সায়কের ব্যক্তিগত জীবন নানা বিতর্কে বিদ্ধ হয়েছে। কখনও গো-মাংস বিতর্ক, কখনও গায়িকা দেবলীনা নন্দীর দাম্পত্য ভাঙার কারণ হিসেবে তাঁর নাম উঠে আসা, আবার কখনও অভিনেত্রী সুস্মিতার সরাসরি সমকামী কটাক্ষ— সব মিলিয়ে সায়ককে সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। সায়ক আক্ষেপ করে লিখেছেন, “আমি আগে বন্ধুর বিপদে পাশে থাকতাম, কিন্তু যখন আমি সমস্যায় পড়লাম, তখন সবাই লাথি মারতে শুরু করল।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ‘গে’, ‘হিজড়ে’, ‘ছক্কা’ বা ‘গরু খেকো’র মতো কুরুচিকর বিশেষণে আক্রমণ করা হয়েছে। এই মানসিক যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে সায়ক আরও জানান, তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তিনি না থাকলে তাঁর কাছের মানুষদের হয়তো কিছুই যেত আসত না, কিন্তু তাঁর মা ও দাদাকে সারা জীবন এই শোক বয়ে বেড়াতে হতো। এই অনুভূতিই তাঁকে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছে।

সায়ক অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই কঠিন সময়ে তিনি তাঁর পরিবার এবং কিছু নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও বন্ধুদের ছাড়া কাউকে পাশে পাননি। তিনি তাদের নাম উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সায়কের এই পোস্ট কেবল নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরা নয়, বরং হতাশাগ্রস্ত মানুষদের জন্য একটি বার্তা। তিনি লিখেছেন, “অন্ধকার আসবে, কিন্তু কষ্ট করে হেরে না গিয়ে পার হলেই দেখবে আবার আলো।”

ট্রোলিং আর ঘৃণার জবাবে সায়ক এখন নিজের জীবনের লক্ষ্যেই স্থির থাকতে চান। তাঁর এই পোস্ট প্রমাণ করল, সোশ্যাল মিডিয়ার জৌলুসের আড়ালে কত বড় একাকীত্ব ও লড়াই লুকিয়ে থাকে। হাজারো নেতিবাচক মন্তব্যের মাঝেও সায়কের ঘুরে দাঁড়ানোর এই ইচ্ছাশক্তি তাঁর অনুগামীদের অনুপ্রাণিত করছে।