অনলাইন বেটিং কাণ্ডে এবার ইডির নজরে অঙ্কুশ হাজরা, দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হল অভিনেতাকে!

অনলাইন বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারি ঘিরে এবার টলিউডে চরম উত্তেজনা। সোমবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিনেত্রী ও সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর এবার অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাকে দিল্লিতে ইডির (Enforcement Directorate) সদর দফতরে তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর, অঙ্কুশ হাজরার ক্ষেত্রেও ইডি-র প্রধান উদ্দেশ্য হলো— তিনি কীভাবে ওই বেআইনি অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হলেন, বিজ্ঞাপন বাবদ তাঁর আয়ের পরিমাণ কত ছিল এবং কর সংক্রান্ত নিয়মাবলী ঠিকভাবে মেনেছিলেন কি না। তদন্তকারীদের সন্দেহ, শুধু বিজ্ঞাপন নয়, কিছু তারকা নির্দিষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমেও এই অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারেন।

ভারত সরকার ইতিমধ্যেই অনলাইন বেটিং অ্যাপকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করেছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যারা এই ধরনের অ্যাপের প্রচার করেছে বা কোনোভাবে সহযোগিতা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিমি ও অঙ্কুশ দু’জনেই এই অ্যাপের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এই তদন্তে শুধু টলিউড নয়, বলিউড ও ক্রিকেট জগতের একাধিক নামও জড়িয়ে পড়েছে। অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলাকে ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না এবং শিখর ধাওয়ানকেও গত মাসে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইডি এই তদন্তে অ্যাপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারকাদের যোগাযোগের মাধ্যম, আর্থিক লেনদেনের ধরন এবং জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুঁজছে। তারকাদের ব্যাংক রেকর্ড এবং চুক্তিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে, তারকারা শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন নয়, বরং সরাসরি আর্থিক লেনদেনে জড়িত ছিলেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও ভক্তরা মনে করেন, তাঁরা হয়তো এর বেআইনি দিক সম্পর্কে জানতেন না, তবে তদন্তকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য— আইন ভঙ্গ করলে দায় এড়ানো যাবে না। অঙ্কুশের এই হাজিরা ঘিরে এখন টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা চরমে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy