ঝান্ডাপুর—দিল্লি থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের এক শ্রমিক মহল্লা। ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় যখন গোটা দেশ উৎসবে মত্ত, তখন মেহনতি মানুষের বঞ্চনার কথা বলতে ‘হল্লা বোল’ নাটক নিয়ে পথে নেমেছিলেন বছর চৌত্রিশের এক যুবক। নাম সফদর হাসমি। কিন্তু সেই পথনাটকই হয়ে রইল তাঁর জীবনের শেষ অভিনয়। সরকারি মদতপুষ্ট আততায়ীদের ২৩টি মরণঘাতী আঘাত স্তব্ধ করে দিয়েছিল এই নাট্যব্যক্তিত্বকে। ২ জানুয়ারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সফদর হাসমি কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ বদলের হাতিয়ার। সেন্ট স্টিফেনস কলেজের কৃতী ছাত্র হয়েও বেছে নিয়েছিলেন শ্রমিকদের বস্তি। তাঁর ‘ঔরত’, ‘মেশিন’ কিংবা ‘হল্লা বোল’ নাটকগুলো কাঁপিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন শাসকদলের ভিত। ২ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী মলয়শ্রী হাসমি যে অদম্য সাহস দেখিয়েছিলেন, তা ইতিহাসে বিরল। স্বামীর মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “যেখানে সফদরকে মারা হয়েছে, সেখানেই নাটক সম্পূর্ণ হবে।” ৪ জানুয়ারি সেই ঝান্ডাপুরেই ২৫ হাজার মানুষের সামনে আবার অভিনীত হয় ‘হল্লা বোল’।
আজ আরজি কর থেকে মণিপুর, কিংবা কৃষক আন্দোলন—যেখানেই প্রতিবাদের সুর চড়ে, সেখানেই ফিরে আসে হাসমির সেই কালজয়ী স্লোগান। ঘাতকের দল সফদরকে মেরে ফেলতে পারলেও, তাঁর আদর্শ আর মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারেনি। ১৪ বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০০৩ সালে মূল অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা মুকেশ শর্মা-সহ ১০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। কিন্তু আজও প্রতিটি মিছিলে, প্রতিটি পথনাটকে জীবিত সফদর হাসমি।