বাংলা বিনোদন জগতে ফের শোকের ছায়া। অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ক্ষত এখনও দগদগে, এরই মাঝে টলিউড হারাল আরও এক গুণী মানুষকে। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট অভিনেতা, বাচিক শিল্পী ও নাট্যব্যক্তিত্ব বিপ্লব দাশগুপ্ত। শুক্রবার দুপুরে নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
দীর্ঘ লড়াই ও প্রয়াণ:
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দেড় বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন অভিনেতা। তাঁর স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত জানান, বিপ্লববাবু অটোইমিউন (Autoimmune) রোগে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে টলিউড জুড়ে শোকের আবহ।
বর্ণময় কেরিয়ার:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করার পর বিপ্লব দাশগুপ্তের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল স্কুল শিক্ষক হিসেবে। তবে সৃজনশীলতার নেশা তাঁকে টেনে আনে শিল্প জগতে। বাচিক শিল্পী হিসেবে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অফ লাইফ’ ছবির মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘গুমনামি’, এবং ‘ফেলুদা’র (২০১৭) মতো একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই ফ্রেমে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি।
টেলিভিশন ও থিয়েটারে দাপট:
শুধুমাত্র বড় পর্দা নয়, ছোট পর্দারও অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ ছিলেন তিনি। ‘কুয়াশা যখন’, ‘রাগে অনুরাগে’, ‘সখী’ ও ‘নেতাজি’-র মতো বহু ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। থিয়েটারের মঞ্চেও তিনি ছিলেন সাবলীল। ‘ম্যাকবেথ’-এর নামভূমিকায় তাঁর অভিনয় আজও চর্চিত।
শিল্পমহলের শোকবার্তা:
বিপ্লব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর সহকর্মীরা। পরিচালক রিঙ্গো বন্দ্যোপাধ্যায় আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, “তুমি ছিলে আমার অনুপ্রেরণা। তোমার চলে যাওয়া এমন এক শূন্যতা তৈরি করল যা অপূরণীয়। ওপারে ভালো থেকো হে রেনেসাঁস ম্যান।” অভিনেতা দেবদূত ঘোষ তাঁকে ‘লাল সেলাম’ জানিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ও রূপাঞ্জনা মিত্রের মতো তারকারাও এই প্রবীণ শিল্পীর বিদায়ে ভেঙে পড়েছেন।





