টলিউড থেকে বলিউড—সাফল্য ও ব্যর্থতা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শেষ দুটি ছবি ‘দেবা’ এবং ‘ও রোমিও’-এর বক্স অফিসে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অভিনেতা শাহিদ কাপুর এখন নতুন উদ্যমে নিজের কর্মপদ্ধতি ঢেলে সাজাচ্ছেন। আগামী ১৯শে জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে শাহিদের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ককটেল ২’। এই ছবি নিয়ে শাহিদ অনুরাগীদের মধ্যে যেমন উত্তেজনা রয়েছে, তেমনই অভিনেতা নিজেও রয়েছেন একপ্রকার মানসিক চাপের মুখে। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে এই ব্যর্থতা তাকে চিত্রনাট্য নির্বাচনের ধরণ বদলে ফেলার তাগিদ দিয়েছে।
সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহিদ অকপটে স্বীকার করেছেন, আগের দুটি ছবির ব্যর্থতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরেও তিনি উপলব্ধি করেছেন, সিনেমার ভাগ্য পুরোপুরি অনিশ্চিত। শাহিদ বলেন, “আপনি ইন্ডাস্ট্রিতে কত বছর কাটিয়েছেন বা কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা সবসময় বড় কথা নয়। সিনেমা একটি চূড়ান্ত অনিশ্চিত মাধ্যম। একজন অভিনেতা হিসেবে একটি সিনেমা শেষ পর্যন্ত কেমন হবে বা বক্স অফিসে কীভাবে চলবে, তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ সীমিত। শেষমেশ ছবির ভাগ্য পুরোপুরি পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে।”
তবে এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শাহিদ এখন আর ভুল করতে নারাজ। আগে তিনি চিত্রনাট্য শোনার বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়েই রাখতেন। অর্থাৎ, চিত্রনাট্যকার বা পরিচালকের সাথে একান্তে বসে তিনি স্ক্রিপ্ট শুনতেন। কিন্তু এখন তিনি সেই ‘একা চিত্রনাট্য শোনার’ সনাতন পদ্ধতি পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন। শাহিদের নতুন রণকৌশল হলো—এখন তিনি যখনই কোনো নতুন ছবির চিত্রনাট্য শোনেন, তখন নিজের পুরো টিমকে সাথে রাখেন।
শাহিদের কথায়, “আগে আমি একা চিত্রনাট্য শুনতাম, কিন্তু সেটা আমার জন্য আর কার্যকর মনে হচ্ছে না। ক্যামেরার সামনে কীভাবে অভিনয় করতে হয় তা আমি জানি, কিন্তু কোন ছবি দর্শকদের হৃদয় জয় করবে বা কোন চিত্রনাট্যটি বক্স অফিসে সফল হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে হয়তো আমার বিচারবুদ্ধি সবসময় সঠিক ছিল না। আমার আগের সিদ্ধান্তগুলো হয়তো কিছুটা অতি-কল্পনাপ্রসূত ছিল, যা সাধারণ দর্শকদের ভালো লাগেনি।”
শাহিদ এখন চান, চিত্রনাট্য শোনার সময় ঘরে অন্তত আরও তিনজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি উপস্থিত থাকুন। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে শুধুমাত্র তার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ কাজ করবে না, বরং আরও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে চিত্রনাট্যটির ভালো-মন্দ যাচাই করা সম্ভব হবে। শাহিদের বিশ্বাস, এই সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমেই তিনি ভবিষ্যৎ ব্যর্থতা এড়াতে পারবেন এবং দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবেন। এখন দেখার বিষয়, তার এই নতুন রণকৌশল ‘ককটেল ২’ ছবির ভাগ্যে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।





