জরায়ুমুখের ক্যানসার রুখতে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি। সরকারি এই উদ্যোগের আওতায় ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অজমেঢ় থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্য ও জেলা স্তরে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে, যা শীঘ্রই ব্লক স্তরেও পৌঁছে যাবে।
টিকাকরণের জন্য সব সরকারি কেন্দ্রে তিন মাস ধরে প্রচার চালানো হবে। টিকাপ্রাপক প্রত্যেককে U-WIN অ্যাপে নাম নথিভুক্ত করতে হবে এবং অভিভাবকদের ওটিপির মাধ্যমে অনুমতি নিতে হবে। সরকারিভাবে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়ার নির্দেশ থাকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলি কোনো মূল্য নিতে পারবে না। বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে টিকাকরণ শুরুর আগে চিকিৎসক ও নার্সদের রুটিন ইমিউনাইজেশন সংক্রান্ত কঠোর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদান কক্ষ, অপেক্ষাকক্ষ এবং টিকা-পরবর্তী ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা জায়গা থাকা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। অল্প বয়সে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত সাড়ায় দেয়, তাই ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের একটি মাত্র ডোজই যথেষ্ট। তবে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের দুই থেকে তিনটি ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। ২৬ বছর পর্যন্ত এই টিকা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী, যদিও চিকিৎসকের পরামর্শে প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারাও এটি নিতে পারেন। ক্যানসার প্রতিরোধের পাশাপাশি এটি গলার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। জরায়ুমুখের ক্যানসার থেকে সুরক্ষায় এই টিকাকরণ কর্মসূচি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে।





