কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর রেড কার্পেটে বলিউড ডিভা আলিয়া ভাট যখন পা রাখলেন, তখন মুহূর্তের জন্য সময় থমকে গিয়েছিল। ল্যাভেন্ডার রঙের ছোঁয়ায় আলিয়াকে মনে হচ্ছিল ঠিক যেন কোনো স্বপ্নপুরীর রাজকন্যা। তবে এটি কেবল একটি দামি পোশাক ছিল না, বরং সিল্ক অর্গানজার ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা এক অনন্য শিল্পকর্ম। অনেকেই আলিয়ার হাতের ব্যাগে ‘ABK’ (Alia Bhatt Kapoor) লেখাটি খেয়াল করে চর্চা শুরু করলেও, আসল বিস্ময় লুকিয়ে ছিল তাঁর গাউনের বুনন এবং সূক্ষ্ম ডিটেলিংয়ের মধ্যে।
গাউনের তুলির টানে শৈল্পিক ইতিহাস
এই অসাধারণ পোশাকটির নেপথ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী বাসুরি চোকসি। বাসুরির যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে। কাঠামোগত নকশা, টেক্সচার এবং স্পেস ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করলেও শিল্পের প্রতি তাঁর টান ছিল জন্মগত। বাবার আঁকা গয়নার সূক্ষ্ম স্কেচ এবং মায়ের সংগৃহীত পিচ্ছওয়াই পেন্টিংয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। ২০১২ সাল থেকে তিনি অ্যাক্রিলিক পেন্টিংকে নিজের ধ্যানের বিষয় করে তোলেন। কান-এর জন্য তৈরি আলিয়ার এই পোশাকে বাসুরির সেই সিগনেচার প্যাস্টেল শেড এবং প্রকৃতির ছোঁয়া স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। হালকা রঙের ব্যবহার এবং নিপুণ তুলির কাজ আলিয়ার ব্যক্তিত্বে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
ফ্যাশন যখন জীবন্ত ক্যানভাস
বাসুরি চোকসির এই সূক্ষ্ম চিত্রকর্মকে ফ্যাশনের রূপ দিয়েছেন উদীয়মান ডিজাইনার যশ পাটিল। তাঁর নিজস্ব লেবেল ‘দ্যাট অ্যান্টিকপিস’-এর অধীনে তৈরি এই গাউনটি আধুনিক ফ্যাশন এবং ধ্রুপদী শিল্পের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। স্কাল্পটেড কর্সেট এবং শৈল্পিক সিলুয়েটের মেলবন্ধনে যশ পাটিল এমন এক পোশাক তৈরি করেছেন যা আভিজাত্যের পাশাপাশি একটি গল্প বলে। এর আগে শোভিতা ধুলিপালা এবং ভূমি পেডনেকরের মতো তারকাদের সাজিয়ে যশ নজর কেড়েছিলেন, তবে আলিয়ার এই কান ২০২৬-এর সাজ তাঁকে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন পরিচিতি দিল। সিল্ক অর্গানজার কাপড়ে হাতে আঁকা নরম ডিজাইনের প্রতিটি ভাঁজ যেন কথা বলছিল। প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি, নরম ফুল এবং জৈব থিম—সব মিলিয়ে আলিয়া ভাট কানের মঞ্চে প্রমাণ করে দিলেন যে ফ্যাশন মানে কেবল দামী কাপড় নয়, ফ্যাশন মানে শিল্পের বহিঃপ্রকাশ।





