শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ল ফলতার স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ তথা কুখ্যাত জাহাঙ্গির খান। নেপাল সীমান্ত দিয়ে বিদেশে পালানোর ছক কষেছিল সে, কিন্তু রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। দীর্ঘদিনের তোলাবাজি, লুঠপাট এবং এলাকা দখলের মতো গুরুতর অভিযোগে জর্জরিত জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারিতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন ফলতাবাসী।
কেন শিরোনামে জাহাঙ্গির?
ফলতার নির্বাচনে জাহাঙ্গির খানের কার্যকলাপ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা নিজে তার বাড়ির সামনে গিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই সময় জাহাঙ্গির পাল্টা নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে অ্যাখ্যায়িত করে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা, ইভিএম-এ কারচুপি এবং ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এই অশান্তির জেরে ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে।
দীর্ঘ তল্লাশির পর পুলিশের জয়
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিল জাহাঙ্গির। আদালতের কাছে রক্ষাকবচ চেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, এমনকি রাজ্য সরকারও সেই আবেদন খারিজের আর্জি জানিয়েছিল। আত্মগোপন করে থাকা জাহাঙ্গির সীমান্ত পার হওয়ার ছক কষলে গোপন সূত্রে খবর পায় STF। নেপাল সীমান্তে ওত পেতে থাকা পুলিশের জালে অবশেষে ধরা পড়ে সে।
দীর্ঘদিন ধরে ফলতায় যে ‘সন্ত্রাস’ ও ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ কায়েম করেছিল জাহাঙ্গির, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বাকি অপরাধচক্র সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।





