বৈদিক পঞ্চাঙ্গ অনুসারে শুরু হতে চলেছে হিন্দু নববর্ষ বা বিক্রম সংবৎ ২০৮৩। ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, এই বিশেষ তিথিতেই ব্রহ্মা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছিলেন। তবে ২০২৬ সালের এই নববর্ষ সাধারণ কোনো বছর নয়; জ্যোতিষশাস্ত্রে একে অত্যন্ত ‘তীব্র’ ও ‘পরিবর্তনকামী’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজা বৃহস্পতি, মন্ত্রী মঙ্গল: বছরের অধিপতি ‘রুদ্র’
আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে এই নতুন বছর। দিনটি বৃহস্পতিবার হওয়ায় বছরের অধিপতি হচ্ছেন দেবগুরু বৃহস্পতি। তবে জ্যোতিষগণনা অনুযায়ী, এই বছরের সংবৎসরের নাম ‘রুদ্র’।
-
রুদ্রের প্রভাব: রুদ্র মানেই সংহার ও তীব্রতা। জ্যোতিষীদের মতে, এই বছর প্রকৃতি, সমাজ এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্থান-পতন দেখা দেবে।
-
গ্রহের সমীকরণ: ২০২৬-এ গ্রহের মন্ত্রিসভায় রাজা হবেন বৃহস্পতি এবং মন্ত্রী হবেন মঙ্গল। এই দুই শক্তিশালী গ্রহের প্রভাবে বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তন ও সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হতে পারে।
১৯৬৬ সালের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
জ্যোতিষীরা জানাচ্ছেন, ঠিক ৬০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে গ্রহেদের একই রকম অবস্থান তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিশ্ব রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছিল। ২০২৬ সালেও সেই একই ধরনের বড় কোনো রাজনৈতিক পালাবদল বা বিশিষ্ট কোনো নেতার প্রয়াণের ইঙ্গিত দিচ্ছে নক্ষত্ররাশি।
ভবিষ্যদ্বাণীতে যুদ্ধের মেঘ ও প্রযুক্তির জয়জয়কার
এই রুদ্র সংবৎসরের ফলাফল হতে পারে সুদূরপ্রসারী:
-
সংঘাত ও যুদ্ধ: সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি কোনো কোনো অঞ্চলে যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।
-
এআই (AI) ও মহাকাশ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। মহাকাশ গবেষণায় ভারত, আমেরিকা ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে।
-
আইন ও শিক্ষায় বদল: সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে একাধিক দেশে কঠোর ও নতুন আইন বলবৎ হতে পারে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আসতে পারে আমূল পরিবর্তন।
কবে শেষ হবে এই সময়কাল?
এই বিশেষ রুদ্র সংবৎসরটি ১৯ মার্চ, ২০২৬-এ শুরু হয়ে চলবে ৭ এপ্রিল, ২০২৭ পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বড় কোনো চুক্তির সাক্ষী থাকতে পারে বিশ্ব।