পরনির্ভরতা ঘুচিয়ে অপ্রতিরোধ্য নৌসেনা গড়ার ডাক! ২০৪৭-এর ভারত কি তবে বিশ্বকে চমকে দেবে?

একবিংশ শতাব্দীর দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মাঝে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনই এখন ভারতের সর্বাগ্রে কৌশলগত প্রয়োজন বলে অত্যন্ত জোরালো মন্তব্য করলেন ভারতীয় নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন। हाल ही में নতুন দিল্লির মর্যাদাপূর্ণ ‘দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগ ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার এক সুদূরপ্রসারী রূপরেখা তুলে ধরেছেন। নৌসেনা প্রধানের এই হুঙ্কার ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বর্তমান আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে অ্যাডমিরাল স্বামীনাথন জানান যে, বিগত ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সংঘটিত বিভিন্ন সংঘাতের পেছনে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২১.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তারও বেশি অর্থ অপচয় ও ব্যয় হয়েছে, যা সমগ্র পৃথিবীর মোট জিডিপির প্রায় ১০.৫ শতাংশের থেকেও অনেকটাই বেশি। বর্তমান শতাব্দীর রাজনীতি ও পরাশক্তিগুলির মূল বৈশিষ্ট্যই হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের পিছনে দেদার অর্থ ঢালা। এই বৈশ্বিক অস্থিরতার বাজারে দাঁড়িয়ে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক মহাশক্তিকে কোনোভাবেই বাইরের দেশের বা বিদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকলে চলবে না।

এই প্রসঙ্গে নৌসেনা প্রধান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত এমন একটি সর্বাধুনিক ও পরাক্রমশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অবিরাম এগিয়ে চলেছে, যারা সম্পূর্ণ নিজেদের শক্তিতে যুদ্ধ পরিচালনা করতে সক্ষম হবে, যেকোনো দুর্গম বা দূরবর্তী সমুদ্রে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির যেকোনো আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে নিখুঁতভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে উপস্থিত অন্য কোনো ব্যক্তি, বিদেশি সংস্থা কিংবা বাহ্যিক পরিকাঠামোর ত্রুটির কারণে যাতে ভারতীয় জলসীমা রক্ষার মতো মহান দায়িত্ব কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ বা পঙ্গু হয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এখন থেকে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

অ্যাডমিরাল স্বামীনাথন আরও উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের আধুনিক ধরন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার সমীকরণ দিনে দিনে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বদলে যাচ্ছে। এই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলিকে সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য দেশীয় প্রযুক্তি, নিজস্ব গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী দেশীয় শিল্প পরিকাঠামোর মধ্যেই যাবতীয় প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বিদেশি অস্ত্র বা প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর উপর ভর করেই স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার মূল ভাবনাই হলো প্রকৃত আত্মনির্ভরতা। সবমিলিয়ে, নৌসেনা প্রধানের এই যুগান্তকারী বার্তা আগামী দিনে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতি ও আত্মরক্ষা কৌশলকে এক সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন দেশবিদেশের বিশিষ্ট সামরিক বিশ্লেষকরা।