“স্ত্রীকে বোকা বা অকর্মণ্য বললেই তা অপরাধ নয়!” স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের মামলা উড়িয়ে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

দাম্পত্য জীবনের কলহ এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ব্যবহারের এক অতি স্পর্শকাতর মামলায় অভূতপূর্ব পর্যবেক্ষণ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। স্ত্রীকে কথায় কথায় ‘বোকা’ (Stupid) কিংবা ‘অকর্মণ্য’ (Useless) বলে মেজাজ দেখানো বা অপমান করা অনুচিত হলেও, তা ভারতীয় আইনে ‘নিষ্ঠুরতা’ বা ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে না।

স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলা গুরুতর ফৌজদারি মামলা সম্পূর্ণ খারিজ করে মঙ্গলবার এমনই ঐতিহাসিক বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগারত্না এবং বিচারপতি মনমোহনের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ: ঘটনার সূত্রপাত কানাডার টরন্টোয়, যেখানে এক প্রবাসী ভারতীয় মহিলার মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর পরপরই মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক নির্যাতন, শারীরিক-মানসিক অত্যাচার এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়।

মামলাটি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এর আগে বম্বে হাইকোর্টের ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চ অভিযুক্ত স্বামীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মামলা থেকে মুক্তি দিলেও, স্বামীর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বম্বে হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন স্বামী।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বোম্বে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ রদ করে জানায়, ২০২১ এবং ২০২২ সালে সামান্য বাকবিতণ্ডার পর থেকে ২০২৩ সালের ১১ জুন ওই মহিলার মৃত্যুর দিন পর্যন্ত পণ বা নির্যাতনের কোনো লিখিত অভিযোগ ছিল না। মৃত্যুর পরই প্রথম এই অভিযোগ সামনে এসেছে, যা তথ্যের সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে।

আইনের অপব্যবহার রোধে কড়া বার্তা: রায়দানকালে বিচারপতিদের বেঞ্চ মন্তব্য করে, “অত্যন্ত চড়া মেজাজের কোনো স্বামী বা স্ত্রীর রূঢ় আচরণকে কখনোই অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা শারীরিক ও মানসিক গুরুতর আঘাতের সমতুল্য ভাবা যায় না। বিশেষ করে, যখন অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ থাকে না। এই পরিস্থিতিতে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র বৈবাহিক বনিবনা না হওয়ার ওপর ভিত্তি করে কাউকে আত্মহত্যার জন্য দায়ী করা আইনের স্পষ্ট অপব্যবহার।”

শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ বর্তমানে দেশের হাজার হাজার আইনি ও পারিবারিক জটিলতায় এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞ মহল।