৩ বার মেনশন করেও মেলেনি আর্জি! অভিষেকের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ মামলা সুপ্রিম কোর্টে যেতেই আদালতের চরম সিদ্ধান্ত

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং একাধিক ইস্যুতে ক্রমাগত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে— এই অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ভিত্তিতে এই মামলায় হস্তক্ষেপ না করে তাঁকে পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, দুর্গাপুজোর ছুটির পরই কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার শুনানি করবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বা আইনি সুরক্ষা পাবেন কিনা, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করবে হাইকোর্টই।

কেন হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে জলঘোলা? মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বিভিন্ন তদন্তাধীন ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত প্রচার বন্ধ করার আর্জি নিয়ে আগেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন অভিষেক। তাঁর আইনজীবী হাইকোর্টে মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য পর পর তিনবার ‘মেনশন’ বা উল্লেখ করেছিলেন।

প্রথমে তিনি বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে আর্জি জানান, তবে বিচারপতি তাঁকে নির্দিষ্ট এজলাসে আবেদনের পরামর্শ দেন। এরপর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটি মেনশন করা হলে, তিনি জানিয়ে দেন যে দুর্গাপুজোর ছুটির মধ্যে এই মামলার শুনানি করা সম্ভব নয়। হাইকোর্টে দ্রুত প্রতিকার না পেয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাধ্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নেড়েছিলেন।

অভিষেকের আইনজীবীর গুরুতর অভিযোগ: সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় অভিষেকের আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তদন্তকারী সংস্থার একাংশ থেকে গোপন নথিপত্র এবং জিজ্ঞাসাবাদের সংবেদনশীল তথ্য কৌশলে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অভিষেকের বিরুদ্ধে একপেশে প্রচার ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছে, যা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করছে না, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করছে।

তবে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিষয়টি হাইকোর্টেই বিচারাধীন থাকা উচিত। ফলে ছুটির পর হাইকোর্ট পুনরায় খুললেই নির্ধারিত হবে তৃণমূল সাংসদের এই আবেদনের ভবিষ্যৎ।