“ফেব্রুয়ারির রায়ের পর ৯ মাস পার! বকেয়া ডিএ কেন দিল না রাজ্য?” সুপ্রিম কোর্টে তুমুল প্রশ্নের মুখে সরকার

সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান নিয়ে ফের শীর্ষ আদালতে জোর ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া চূড়ান্ত রায়ের পর দীর্ঘ নয় মাস কেটে গেলেও কেন বকেয়া ডিএ মেটানো হয়নি, তা নিয়ে মঙ্গলবার সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করল সর্বোচ্চ আদালত।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত প্রশ্ন তোলে— রায়ের এত দিন পরও কেন সব সরকারি কর্মচারী ও গ্রান্টস-ইন-এইড (অনুদানের আওতাভুক্ত) কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য ডিএ পেলেন না?
তৃতীয় স্টেটাস রিপোর্ট পেশ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের তৃতীয় ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজ্যের আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে, বকেয়া ডিএ তদারকির জন্য আদালত নিযুক্ত প্রাক্তন বিচারপতি হিন্দু মালহোত্রার কমিটি আগামী ১৪ ডিসেম্বর সব পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসবে।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র নির্দেশ দেন, অনুদানপ্রাপ্ত কর্মী ও শিক্ষকরা তাঁদের নিজস্ব দাবিদাওয়া আদালতের এই বিশেষ কমিটির কাছে পেশ করবেন। কমিটি সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৭-এ মামলাটির পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে শীর্ষ আদালত। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও বকেয়া বকেয়াই রয়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি মিশ্র।
আইনজীবীদের বিস্ফোরক অভিযোগ: শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ তোলেন যে, রাজ্য সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকরা এখনও পর্যন্ত এক টাকাও বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাননি।
অন্যদিকে, কর্মচারী সংগঠনের আর এক আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতে জানান, এর আগে আদালত নিযুক্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়া রিপোর্টে মোট ৪২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া ডিএ মেটানোর কথা জানানো হয়েছিল। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, এ যাবৎ মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক, পুরসভা ও পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা বিরাট সংখ্যক কর্মী এখনও তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, আগামী জানুয়ারি মাসে শীর্ষ আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষককুল।