এক ধাক্কায় ২২ শতাংশ লাফ! দীপাবলির আগে কর আদায়ের মেগা পরিসংখ্যানে চমকে দিল অর্থনীতি!

উৎসবের মরশুম ও দীপাবলির ঠিক আগে দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য নিয়ে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও দুর্দান্ত খবর সামনে এল। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে গ্রস গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) বা জিএসটি আদায়ের পরিমাণ সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে পৌঁছে গিয়েছে ২ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকায়। গত বছরের একই মাসের তুলনামূলক পরিসংখ্যানের নিরিখে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ২২.৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও রবিবারে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম সাত মাসে (এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত) মোট জিএসটি সংগ্রহের হিসাব গিয়ে ঠেকেছে ১৪.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা বিগত বছরের তুলনায় ১৩.২ শতাংশ বেশি।
এই বিশাল সর্বভারতীয় অর্জনের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দারুণ অগ্রগতি করেছে পশ্চিমবঙ্গও। বিশেষ গুরুত্বের এই রাজ্যে অক্টোবর মাসে জিএসটি সংগ্রহ ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ৬ হাজার ০৫৫ কোটি টাকায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎসবের এই প্রাণবন্ত মরশুমে রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা, খুচরো ও পাইকারি বাজারের চাকা সচল থাকা এবং বাণিজ্য মহলের জোয়ারই রাজস্ব আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফের প্রধান চালিকাশক্তি।
দেশজুড়ে জিএসটি আদায়ের বিশদ খতিয়ান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে মোট অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ১৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা এবং আমদানি থেকে আসা রাজস্ব ৪২.২ শতাংশ লাফিয়ে বেড়ে ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি করদাতাদের রিফান্ড বা কর ফেরত দেওয়ার পরিমাণ ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। অক্টোবরের মোট সংগ্রহের মধ্যে সেন্ট্রাল জিএসটি বা সিজিএসটি (CGST)-এর পরিমাণ ৪২ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা এবং স্টেট জিএসটি বা এসজিএসটি (SGST)-এর পরিমাণ ৫১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। এছাড়া ইন্টিগ্রেটেড জিএসটি বা আইজিএসটি (IGST)-র সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা। সমস্ত রিফান্ড বা কর ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে নিট জিএসটি রাজস্ব ২৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২.০৩ লক্ষ কোটি টাকায়।
রাজ্যভিত্তিক কর আদায়ের পরিসংখ্যানে বরাবরের মতো দেশের বড় রাজ্যগুলির মধ্যে সবার উপরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মহারাষ্ট্র। অক্টোবরে শুধুমাত্র মহারাষ্ট্র থেকেই ৩৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকার রেকর্ড রাজস্ব আদায় হয়েছে (১৩ শতাংশ বৃদ্ধি)। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে রয়েছে কর্ণাটক, যেখান থেকে ১৫ হাজার ৯২২ কোটি টাকা (১৮ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং গুজরাট, যেখান থেকে ১৩ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা (১৬ শতাংশ বৃদ্ধি) সংগৃহীত হয়েছে। অন্যান্য বৃহৎ রাজ্যগুলির মধ্যে উত্তরপ্রদেশে ১০ হাজার ২৩৫ কোটি (২৪ শতাংশ বৃদ্ধি), হরিয়ানায় ১১ হাজার ৫২৯ কোটি (১৭ শতাংশ বৃদ্ধি), তামিলনাড়ুতে ১১ হাজার ৬৬১ কোটি (৩ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং রাজধানী দিল্লিতে ৯ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা জিএসটি সংগৃহীত হয়েছে।
তবে সমস্ত রাজ্যকে পিছনে ফেলে চলতি অক্টোবরে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসাম। সেখানে জিএসটি সংগ্রহ এক ধাক্কায় অবিশ্বাস্যভাবে ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে ৩১ শতাংশ এবং মধ্যপ্রদেশে ২৯ শতাংশ শক্তিশালী বৃদ্ধি নথিবদ্ধ করা হয়েছে। যদিও সিকিম, লাদাখ, পুদুচেরি এবং হিমাচল প্রদেশের মতো কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে অক্টোবরে জিএসটি সংগ্রহ সামান্য হ্রাস পেয়েছে। উৎসবের এই রোমাঞ্চকর আবহে দেশ তথা বাংলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাজারের জন্য অত্যন্ত শুভ সঙ্কেত বলেই মত প্রকাশ করেছে ওয়াকিবহাল মহল।