২০৪৭-এর ‘উন্নত ভারত’ গঠনে ছত্তিশগড়ের মেগা মাস্টারপ্ল্যান! রাজ্যোৎসবে মোদীর বড় বার্তা শোনালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী!

ছত্তিশগড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জমকালো ‘রাজ্যোৎসব ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হলো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে ছত্তিশগড় মহাতারীর ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ মনসুখ মান্ডাভিয়া। নিজের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লক্ষ্য অর্জনে ছত্তিশগড়ের মতো প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ রাজ্যের ভূমিকা অপরিসীম। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাইয়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রাজ্যটিতে এখন জনকল্যাণ, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং শিল্প বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীর অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ডঃ মান্ডাভিয়া বলেন, অটলজি পৃথক ছত্তিশগড় রাজ্য গঠন করে স্থানীয় মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে এক নতুন রূপ দিয়েছিলেন। আজ সাই সরকারের পরিচালনায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। যে বস্তার এলাকা একসময় কেবল নকশাল হিংসার জন্য খবরের শিরোনামে থাকত, তা আজ নকশালমুক্ত হয়ে ক্রীড়া, পর্যটন ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় তরুণরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জন করছে, যা রাজ্যের প্রকৃত রূপান্তরের অন্যতম বড় প্রমাণ।

রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবসের এই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দূরদর্শী নির্দেশনায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতায় বস্তার থেকে নকশালবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য সমাজের শেষ সারির মানুষটির কাছেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০টি পাকা ঘর তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কুইন্টাল ৩,১০০ টাকা দরে ধান ক্রয় করে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানো হয়েছে এবং ‘মাহতারি বন্দন যোজনা’-র মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬৮ লক্ষের বেশি মহিলাকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য গঠনের সময় যেখানে মাত্র একটি মেডিকেল কলেজ ছিল, আজ সেখানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ২১টি মেডিকেল কলেজ সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। একই সাথে ‘শ্রী রাম লল্লা দর্শন যোজনা’-র আওতায় ইতিমধ্যেই ৫০ হাজারেরও বেশি ভক্ত নিখরচায় অযোধ্যা ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতি মন্ত্রী রাজেশ আগরওয়াল জানান, বিশিষ্ট লোকশিল্পী প্রয়াত তীজন বাঈয়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ রাজ্য সম্মাননা প্রবর্তন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে রাজ্যোৎসবের এই জমকালো সূচনা রাজ্যের এক উজ্জ্বল ও আত্মনির্ভর ভবিষ্যতের নতুন দিশা দেখাচ্ছে।