৩ কিমি পর্যন্ত কেঁপে উঠল মাটি, অসাড় শত শত মানুষের কান! বিহারে ভয়াবহ গ্যাসে ব্লাস্টে তুমুল হাহাকার!

সোমবার সকালে বিহারের মুজাফফরপুরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো বিপর্যয়। জেসিবি দিয়ে খননকাজ চলার সময় পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) লাইন ফেটে এক প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় একটি চারতলা ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধসে পড়ে। একই সঙ্গে আশপাশের বহু বাড়িঘর তছনছ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই এক যুবকের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে করুণ মৃত্যু হয় এবং অন্তত ছয়জনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মুজাফফরপুরের সদর থানা এলাকার গোবরসাহী-ডুমরি এলাকায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে সেখানে জেসিবি মেশিন দিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে রাস্তা ও ড্রেন খননের কাজ চলছিল। সেই সময়েই মাটির নিচে থাকা পিএনজি গ্যাস পাইপলাইনে সজোরে আঘাত লাগে এবং তড়িঘড়ি গ্যাস লিক হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের সংস্পর্শে এসে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়।

দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের দাবি, পাইপলাইন ফাটার এই শব্দের ধাক্কা প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট শোনা গিয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের মতে, মনে হচ্ছিল ঠিক যেন তাঁদের কানের কাছেই এক সঙ্গে একাধিক শক্তিশালী বোমা ফেটেছে। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা কেটে গেলেও প্রচণ্ড শব্দের কারণে স্থানীয় অনেক মানুষের শ্রবণশক্তি সাময়িকভাবে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে এবং কান অসাড় হয়ে আছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে প্রায় ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা একাধিক বাড়ির জানালার কাচ চুরমার হয়ে যায় এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কিছু যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ঘটনার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসে জেলা প্রশাসন, বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। পিএনজি কোম্পানির বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের ডেকে এনে বহু চেষ্টার পর পরিস্থিতি আয়ত্তে আনা সম্ভব হয় এবং গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান জারি রয়েছে। এই ঘটনার পর গোটা এলাকা জুড়ে চরম শোক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।