নির্বাচনে ধাক্কা খেতেই বড় চাল নেতানিয়াহুর! বিরোধী নেতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে রক্ষা করবেন কুর্সি?

ইসরায়েলের রাজনৈতিক জলঘোলা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতেই নিজের ক্ষমতা ও কুর্সি বাঁচাতে চরম চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সূত্রের খবর, তিনি এখন বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে সরকার গঠনে অত্যন্ত আগ্রহী। যদিও প্রকাশ্যে তিনি এমন কোনো সমঝোতার পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই২৪ নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহল জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার সমীকরণ টিকিয়ে রাখতে সম্ভাব্য সমস্ত বিকল্পই বিবেচনা করছেন। নেতানিয়াহুর মূল আশঙ্কা হলো, বিরোধী নেতা আইজেনকোট হয়তো আরব দলগুলো এবং উগ্র-ধর্মীয় ইহুদি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠন করে ফেলতে পারেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি সংসদ) চরম ধাক্কা খেয়েছে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট। বিগত সংসদে যেখানে তাঁদের ৬৮টি আসন ছিল, সেখানে এবার তারা মাত্র ৫৩টি আসনে থমকে গেছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন লাভ করেছে। অংক অনুযায়ী বিরোধী ও আরব দলগুলোর সম্মিলিত শক্তি সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট হলেও, তাদের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি এখনো হয়নি। নেতানিয়াহু তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করা হবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। এই মন্তব্যের জেরে বিরোধী নেতারা পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, নেতানিয়াহু আসলে নতুন কোনো সরকার গঠন আটকানোর চক্রান্ত করছেন।
এদিকে, সরকার গঠন নিয়ে তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যেই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। দলটি ভোট কেনার কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করলেও ফলাফলে হেরফের হওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। নগদ টাকায় ভর্তি খামসহ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’ নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। আইজেনকোট পাল্টা অভিযোগ এনেছেন যে নেতানিয়াহু নির্বাচনের ফলাফল কারচুপির অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।