‘আইনজীবীরা মারধর করলেও শাস্তি পায় পুলিশই!’ এসএইচও ও এসিপি বদলি হতেই দিল্লিতে নজিরবিহীন তুলকালাম!

সোমবার দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে আচমকা নেমে এলো হাজার হাজার পুলিশকর্মীর ঢল। কর্মক্ষেত্রে আইনজীবীদের ক্রমাগত হেনস্থা, দাদাগিরি এবং মারধরের প্রতিবাদের পাশাপাশি সহকর্মীদের ওপর অন্যায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন খোদ খাকি পোশাকের রক্ষকেরা। ঘটনাটি কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

এই চরম ক্ষোভ ও নজিরবিহীন প্রতিবাদের সূত্রপাত সম্প্রতি দিল্লির শাহদারা থানা এলাকায়। জানা গিয়েছে, সেখানে এক সাধারণ নাগরিক ও কয়েকজন আইনজীবীদের মধ্যে হঠাৎই প্রবল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় এসএইচও এবং এসিপি। অভিযোগ, সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বদলে উল্টে ওই দুই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন আইনজীবীরা। কিন্তু ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের বদলে প্রশাসন উল্টে ওই এসএইচও ও এসিপি-কেই রাতারাতি অন্যত্র বদলি করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের পরেই দিল্লি পুলিশ বাহিনীর নিম্ন ও মধ্যস্তরের সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারী পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের সাফ অভিযোগ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁরা প্রায়শই একাংশের অনিয়ন্ত্রিত আইনজীবীদের দ্বারা শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থার শিকার হন। কিন্তু প্রতিবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার বদলে উল্টে পুলিশ কর্তাদের বলির পাঁঠা বানানো হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

প্রতিবাদ চলাকালীন তিস হাজারি আদালতের পুরনো হিংসাত্মক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়া এক বরখাস্ত হওয়া এএসআই ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আইনজীবীদের অন্যায় চক্রান্তের বলি হয়ে তাঁকে টানা আটটি বছর চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়ে কাটাতে হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর পুলিশের এক ডিসিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা এবং উপযুক্ত আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া আশ্বাস দিলে অবশেষে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন ও সদর দপ্তর চত্বর ছেড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।