যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাকে ২০ মিনিট আটকে শ্লীলতাহানি! উপাচার্যের নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপে তুমুল চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মহিলাকে আটকে রেখে মারাত্মক শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল। এই গুরুতর ঘটনার পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০ মিনিট আটকে রেখে অসভ্যতার অভিযোগ: অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে ওই মহিলাকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
উপাচার্যের কড়া অবস্থান ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ: অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠা শিক্ষাকর্মীকে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালীন তাকে প্রশাসনিক কাজ থেকেও দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC): ঘটনার সত্যতা যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুরো বিষয়টি পাঠানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি বা ‘ইন্টারনাল কমপ্লেন্টস কমিটি’ (ICC)-র কাছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইসিসি-কে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। যে কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাকে আপাতত ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আইসিসি-র রিপোর্ট হাতে আসার পরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি ও বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর। এই ঘটনায় যাদবপুরের পড়ুয়া ও কর্মীমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।