“মাদক, দুর্নীতি আর ক্রাইম!” নিজস্ব সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আপ-এর ২ বিধায়ক, চণ্ডীগড়ে চরম তোলপাড়!

পঞ্জাবের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! সাড়ে চার বছরের মেয়াদ পেরোনোর পর এবার নিজের সরকারের বিরুদ্ধেই সরাসরি তোপ দাগলেন শাসকদল ‘আম আদমি পার্টি’ (AAP)-র দুই হেভিওয়েট বিধায়ক। রবিবার চণ্ডীগড় প্রেস ক্লাবে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে ভগবন্ত মান সরকার এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন সনৌর-এর বিধায়ক হরমিত সিং পাঠানমাজরা এবং সামানা-র বিধায়ক চেতন সিং জোড়ামাজরা।
কেজরিওয়াল ও বৈভব কুমারকে নিশানা সাংবাদিক সম্মেলনে দুই বিদ্রোহী বিধায়ক সরাসরি আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বৈভব কুমারের দিকে আঙুল তুলেছেন। পঞ্জাবের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য তাঁরা এই শীর্ষ নেতৃত্বকেই দায়ী করেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার চরম ব্যর্থ হয়েছে বলে মারাত্মক দাবি করেন এই দুই নেতা।
মাদক, দুর্নীতি ও ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শোরগোল সরকারকে বিঁধে দুই বিধায়ক অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় পঞ্জাবকে সম্পূর্ণরূপে ‘মাদক মুক্ত’ করার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাড়ে চার বছর কেটে গেলেও বাস্তব চিত্র বদলায়নি। রাজ্যে এখনো রমরমিয়ে চলছে মারাত্মক ড্রাগস বা ‘চিন্টে’-র বেচাকেনা, এমনকী মাদকের হোম ডেলিভারিও হচ্ছে খোলাখুলি! গত অক্টোবরে মানসায় মাদকবিরোধী কর্মী পারভিন্দর সিং ঝোটার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তাঁরা রাজ্যে সমাজসেবীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পাশাপাশি, পঞ্জাবের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই বিধায়ক জানান, “রাজ্যে গ্যাংস্টারদের তাণ্ডব, তোলাবাজি, চেন ছিনতাই এবং খুনের ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীদের মন থেকে পুলিশের ভয় উঠে গেছে। থানার সামনে বা এসএসপি অফিসের কাছাকাছি এলাকাতেও দুষ্কৃতীরা অপরাধ ঘটিয়ে চম্পট দিচ্ছে।”
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক স্তরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সরকারি দপ্তর, তহশিল এবং পুলিশ স্টেশনগুলোতে অবাধে ঘুষখোড়ি ও দুর্নীতি চলছে বলে মারাত্মক অভিযোগ তোলেন হরমিত ও চেতন। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বহু পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে বলে দাবি করে নিজেদের সরকারের চরম ব্যর্থতা তুলে ধরেন তাঁরা।
নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে নিজস্ব দুই বিধায়কের এমন বিস্ফোরক ভূমিকা পঞ্জাবের আপ সরকারের অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।