২০ বার ভাঁজ করতেই ভাঙল বহুমূল্যের স্ক্রিন! অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন ঘিরে মহা বিপদ, আপনার নেই তো?

ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের দুনিয়ায় পথচলা শুরু করতেই বড়সড় ধাক্কা খেল প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। তাদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ (iPhone Duo) বাজারজাত করার পর থেকেই ভেতরের স্ক্রিন নিয়ে একের পর এক অভিযোগ জমা হতে শুরু করেছে। গ্রাহকদের দাবি, খুব অল্প সময়ের ব্যবহারের পরই ফোনের ডিসপ্লেতে ধরছে ফাটল এবং ফুটে উঠছে বিভিন্ন অস্বাভাবিক রঙিন দাগ।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে যে সব গ্রাহক একদম প্রথম দিকে আইফোন ডুয়ো কিনেছিলেন, তাদের ফোনেই এই ধরনের ডিসপ্লে সংক্রান্ত সমস্যা দেখা যাচ্ছে বেশি। টেক নিউজ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাকরুমার্স’ জানিয়েছে, অ্যাপল ইতিমধ্যেই তাদের সমস্ত অফিশিয়াল রিটেইল স্টোর এবং অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারগুলোতে একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা পাঠিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ফোনগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করে বিনামূল্যে মেরামত করা বা পুরো হ্যান্ডসেটটি বদলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, সমস্যার পরিধি খুবই সীমিত এবং খুব অল্পসংখ্যক ইউনিটেই কেবল এই ফাটল বা দাগের চিহ্ন দেখা গেছে।
কেন তৈরি হচ্ছে স্ক্রিনের ফাটল?
ফোন বাজারে আসার কিছুদিনের মধ্যেই ব্যবহারকারীরা খেয়াল করেন, হ্যান্ডসেটটির ভেতরের ডিসপ্লের ঠিক মাঝখানে—যেখানে এটি ভাঁজ হয় বা ‘হিঞ্জ’ (Hinge) থাকে—সেখানেই মূল ফাটল তৈরি হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার এক আইফোন ডুয়ো ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও চমকপ্রদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, মাত্র ২০ বারেরও কম সময় ফোনটি খোলা ও বন্ধ করার পরই তার ফোনের ভেতরের ডিসপ্লেতে স্পষ্ট ফাটল ধরে যায়। বাইরে থেকে ফোনটিতে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত লাগেনি বলেও নিশ্চিত করেছেন ওই গ্রাহক।
মূল খলনায়ক কি ফোনের হিঞ্জ?
কোম্পানি এখনো পর্যন্ত এই যান্ত্রিক ত্রুটির পেছনে আসল কারণ প্রকাশ্যে আনেনি। তবে টেকনোলজি মেরামতের সুপরিচিত ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ‘আইফিক্সিট’ (iFixit) তাদের প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইঙ্গিত দিয়েছে যে, হিঞ্জের ডিজাইনে গোলমালের কারণেই হয়তো এমনটা ঘটছে।
আইফিক্সিটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফোনটি যখন ভাঁজ করা হয়, তখন হিঞ্জের ভেতর থাকা সাপোর্ট বারটি সঠিক স্থানে সঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে প্রতিবার ভাঁজ করার সময় ডিসপ্লের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্ক্রিনটি ফেটে যাচ্ছে। সিটি স্ক্যান, থ্রিডি মডেলিং ও পেটেন্ট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আইফিক্সিট এই মত প্রকাশ করলেও অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এ বিষয়ে সাড়া দেয়নি।
ওয়ারেন্টি শেষ হলে খরচ লাখ টাকার কাছাকাছি!
সহজে মেরামত করার দিক থেকে আইফিক্সিট আইফোন ডুয়ো-কে ১০-এর মধ্যে ৫ নম্বর দিয়েছে। অর্থাৎ এটি মেরামত করা বেশ জটিল। সংস্থাটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এই ভেতরের স্ক্রিনটি পরিবর্তন করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯৯৯ ডলার খরচ পড়বে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৪,৮১৭ টাকার সমান। ফলে পকেটে বড়সড় টান পড়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গ্রাহকরা।
ফোন ফেরত নিচ্ছে না অ্যাপল, এখন গ্রাহকদের করণীয় কী?
সংকট তৈরি হলেও অ্যাপল আপাতত তাদের কোনো ‘পণ্য রিকল’ (Recall) বা সম্পূর্ণ ফেরত নেওয়ার বিশেষ সার্ভিস প্রোগ্রাম ঘোষণা করেনি। সার্ভিস সেন্টারগুলোকে সাধারণ ওয়ারেন্টি বিধিমালা অনুসারেই কাজ চালাতে বলা হয়েছে।
আপনার আইফোন ডুয়োর ভেতরের ডিসপ্লেতে যদি কোনো ফাটল, দাগ বা অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে নিকটস্থ অনুমোদিত অ্যাপল সার্ভিস সেন্টার বা অ্যাপলকেয়ার (AppleCare)-এর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সার্ভিস সেন্টারে পর্যালোচনার পর কোম্পানির নিয়ম মেনেই ফোনটির স্ক্রিন ফ্রিতে সারিয়ে দেওয়া হবে অথবা নতুন ডিভাইস প্রদান করা হবে।