‘খুন করা হয়েছে ছেলেকে!’ হাসিনার এক্সক্লুসিভ ফুটেজ ভাইরালের পরেই রহস্যময় পরিণতি, কাঠগড়ায় করা?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসার সেই ঐতিহাসিক ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী মুহূর্তের ভিডিও কে তুলেছিলেন, তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল পুরো উপমহাদেশ। এবার সেই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিক কেএম তহসিফ সৌরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। ঢাকার তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর নিথর দেহ।
নিখোঁজ হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নদী থেকে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার স্পষ্ট খুনের অভিযোগ তুলেছে। প্রাক্তন এই ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের মৃত্যুর নেপথ্যে গোয়েন্দা চক্রান্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না কি অন্য কিছু—তা নিয়ে এখন তোলপাড় ওপার বাংলা।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
পরিবার সূত্রে খবর, গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে এক বন্ধুর সঙ্গে বাইক সাড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ২৮ বছর বয়সী কেএম তহসিফ সৌরি। এর পর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। পরদিন, অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদীতে তাঁর দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যত বড় আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল এবং পেট অস্বাভাবিক ফোলা ছিল। ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।
হাসিনার ভিডিও, চাকরি হারানো ও ‘RAW’ যোগের বিতর্ক
২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লে সেই সংক্রান্ত কিছু গোপন ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে সৌরির নাম উঠে আসে। প্রায় ২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’-এর অছিলায় তাঁকে বায়ুসেনা থেকে বরখাস্ত করা হয়।
পরবর্তীকালে বাংলাদেশের দৈনিক ‘আমার দেশ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার দৃশ্য ছড়ানোর পেছনে সৌরি ও তাঁর এক সহকর্মীর হাত ছিল এবং তাঁদের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর যোগসূত্র রয়েছে। যদিও বাংলাদেশের সামরিক জনসংযোগ দপ্তর (ISPR) গোয়েন্দা যোগের অভিযোগ খারিজ করে স্রেফ প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানায়।
পডকাস্টে বিতর্কিত খোলসা ও প্রাণ সংশয়ের আতঙ্ক
মৃত্যুর আগে ‘স্পিক উইথ রশিদ’ নামের একটি বিতর্কিত পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে মুখ খুলেছিলেন তহসিফ সৌরি।
সেখানে তাঁর চাকরি যাওয়া এবং ভিডিও প্রকাশের সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি অস্বীকার না করে কিছুটা ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব দেন।
পাশাপাশি ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান ভেঙে ৩৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়ার গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সৌরির বাবা জানান, উক্ত পডকাস্টটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই সৌরি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণভয়ে ভুগছিলেন। বারবার পরিবারের কাছে নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনীতির পারদ
সৌরির এই আকস্মিক ও রহস্যজনক পরিণতি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন—ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বলী হতে হয়েছে এই তরুণ আধিকারিককে। সেনা ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কিছু সত্যি সামনে আনার কারণেই কি তাঁকে জীবন দিতে হলো? উত্তর খুঁজছে তদারকি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।